ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের বিক্ষোভ, শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১১ মার্চ : উজনি অসমের বৌদ্ধিক ও উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে ছাত্রসমাজ। অসমের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি বহিরাজ্য ও বিদেশ থেকে আসা ছাত্রছাত্রীদের অধ্যয়নের এই বিশ্ববিদ্যালয় হঠাৎই উত্তাল হয়ে ওঠে শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে ক্ষোভকে কেন্দ্র করে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করে ছাত্রসমাজ। এমনকি শিক্ষামন্ত্রী জাতীয় শহিদদেরও অপমান করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরই প্রতিবাদে বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ রণোজ পেগু কুশপুতুল দাহ করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে ছাত্রছাত্রীরা।

উল্লেখ্য, ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্র সরকার বহুমুখী শিক্ষা ও গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে উন্নীত করেছে। শিক্ষা ক্ষেত্রের পাশাপাশি ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতি অর্জন করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। সেই সময় তিনি ঘোষণা করেছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সেমিস্টারের খরচের অর্ধেক রাজ্য সরকার বহন করবে।

কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রীর সেই প্রতিশ্রুতি এখনও কার্যকর হয়নি। বিশেষ করে ফি কমানোর দাবিতে মঙ্গলবার ছাত্রসমাজ প্রতিবাদে নামে। এরপর রাতে শিক্ষা মন্ত্রী ডাঃ রণোজ পেগুর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করে। তবে স্নাতকোত্তর ছাত্র একতা সভার প্রতিনিধিরা ফি হ্রাসের দাবি উত্থাপন করলে শিক্ষা মন্ত্রী তাঁদের অপমান করেন বলে অভিযোগ ওঠে। ছাত্রসমাজের অভিযোগ, সেই সময় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আন্দোলন করে কী হবে? ছয় বছরের আন্দোলন করেও কিছু হয়নি, বন্দুক তুলে নেওয়া লোকেরাও পারেনি। আন্দোলন করলে তিন মাস পর্যন্ত কাজই হবে না। মুখ্যমন্ত্রী জানতে পারলে পুরো বিষয়টি বন্ধ করে দেবেন।” একজন শিক্ষা মন্ত্রীর মুখে এমন মন্তব্য সামনে আসতেই আবারও উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয়। সামাজিক মাধ্যমে সেই মন্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

এর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশদ্বারের সামনে ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পাশাপাশি জ্যোতি বাটচোড়া চত্বরে শিক্ষা মন্ত্রীর কুশপুত্তলিকাও দাহ করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্জীয়ক প্রমানন্দ সানোয়াল প্রতিবাদী ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। বৈঠকে তিনি জানান, ছাত্রছাত্রীরা যদি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চায় এবং প্রতিবাদ কর্মসূচি প্রত্যাহার করে, তাহলে তাঁদের দাবিগুলি মেনে নেওয়া হতে পারে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এই প্রস্তাব সহজভাবে নেয়নি ছাত্র একতা সভা। এরই প্রতিবাদে জ্যোতি বাটচোড়া চত্বরে স্নাতকোত্তর ছাত্র একতা সভার উদ্যোগে ক্ষুব্ধ ছাত্রছাত্রীরা ৩৬ ঘণ্টার অনশন কর্মসূচিতে বসে।

একজন ছাত্র বলেন, “ডিব্রুগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে কালো সময়। আলোচনার নামে একজন জনপ্রতিনিধি নিজের বাড়িতে ডেকে ছাত্র প্রতিনিধিদলকে অপমান করেছেন। এরপর আন্দোলন শুরু হয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আন্দোলন বন্ধ করলে ফি অর্ধেক করার প্রস্তাব দিচ্ছে। ৫০ শতাংশ ফি ছাড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অধিকার। আমরা ভিক্ষা চাই না, আমাদের প্রাপ্য আমরা নেব। কিন্তু অসম সরকারের কাছে মাথা নত করে নয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *