বরাক তরঙ্গ, ১০ মার্চ : মঙ্গলবার রাতে দিসপুরের লোকসেবা ভবনে অনুষ্ঠিত হয় রাজ্য সরকারের মন্ত্রিসভার বৈঠক। বৈঠক শেষে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের পর গণশিল্পী রাজীব শদিয়ার স্ত্রীকে নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী উপাসনা বকলিয়াল গগৈকে নিয়োগপত্র তুলে দেন। তাঁকে তিনসুকিয়ায় রাজস্ব বিভাগে তৃতীয় শ্রেণির চাকরি দেওয়া হয়েছে।
এদিনের মন্ত্রিসভা বৈঠকে কেন্দ্র সরকারের পিএম স্বনিধি প্রকল্পকে বিভিন্ন গ্রামীণ এলাকায় সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগে এই প্রকল্প কেবল শহরাঞ্চলের জন্য প্রযোজ্য ছিল, কিন্তু এখন তা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেও চালু করা হবে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পথের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুদমুক্ত ঋণ প্রদান করা হয়।
প্রখ্যাত শিল্পী জুবিন গর্গের সমাধিস্থল নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে অসম মন্ত্রিসভা। ‘জুবিনক্ষেত্র’ নির্মাণের জন্য রাজ্যের সাংস্কৃতিক বিষয়ক দপ্তরকে ১০ বিঘা জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, এখন থেকে জুবিনক্ষেত্রের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব রাজ্য সরকারের সাংস্কৃতিক দপ্তরের অধীনেই থাকবে।
গুয়াহাটিতে পানীয়জল সরবরাহের জন্যও অর্থ বরাদ্দ করেছে অসম সরকার। পাশাপাশি গুয়াহাটির পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী বাসিন্দাদের ভূমি পট্টা দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তিন প্রজন্ম ধরে বসবাসকারী অসমীয়াদের এই ভূমি পট্টা দেওয়া হবে। আগামী ১৬ মার্চ ৮১৬ জনকে ভূমি পট্টা প্রদান করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
গোয়ালপাড়া জেলায় শিল্পায়নের লক্ষ্যে জমি বরাদ্দের অনুমোদন দিয়েছে অসম মন্ত্রিসভা। ছয়টি প্রকল্পের জন্য মোট ২৪,৮০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এছাড়া বিহালিতে নির্মীয়মাণ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের নামকরণে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কলেজটির নামকরণ করা হবে ছবিলাল উপাধ্যায়ের নামে।
বরপেটার ফখরুদ্দিন আলি আহমেদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে মন্ত্রিসভা। এখন থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি ‘বরপেটা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় ও হাসপাতাল’ নামে পরিচিত হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদের সম্মানে বরপেটায় অন্য একটি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হবে।

এছাড়া মিসিং জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করেছে রাজ্য সরকার। তাদের প্রধান উৎসব ‘আলি-আই-লিগাং’ উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেওয়া হয়।
চা জনগোষ্ঠীর জন্যও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের ৩৭টি চা জনগোষ্ঠীকে ওবিসি (OBC) মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অসম সরকার। এতদিন এই গোষ্ঠীগুলি উপ-গোষ্ঠী হিসেবে থাকলেও ওবিসি স্বীকৃতি পায়নি। এখন থেকে তারা ওবিসি হিসেবে স্বীকৃতি পাবে।



