বাংলা মাধ্যমের বিদ্যালয়ের সমস্যা নিয়ে স্কুল পর্ষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে বরাকবঙ্গ

Spread the news

শূন্য শিক্ষকপদ, বই-প্রশ্নপত্রে‌ ভাষা বিকৃতি, নেই বই

বরাক তরঙ্গ, ১০ মার্চ : বরাক উপত্যকা সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলা মাধ্যমের বিদ্যালয়গুলোর বহুমাত্রিক সমস্যা নিরসনের দাবি নিয়ে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা পর্ষদের চেয়ারম্যান রমেশচন্দ্র জৈনের সঙ্গে বৈঠকে বসল বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলন। শিলচরে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সমস্যার চিত্রগুলো সবিস্তারে তুলে ধরে এ ব্যাপারে বরাকবঙ্গের তরফে তাঁর হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলা মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলো পঠন-পাঠনের ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যায় ধুঁকছে। নিম্ন, মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক স্তরে বাংলায়‌ পাঠদানের জন্য শিক্ষক পদ থাকলেও দীর্ঘদিন থেকে তা শূন্য রয়েছে। ফলে উপযুক্ত শিক্ষকের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে বাংলায় যথাযথ পাঠদান। মিলছে না বাংলা মাধ্যমের বহু পাঠ্যপুস্তক, প্রশ্নপত্র এবং পাঠ্য বইয়ে ঘটছে ভাষা বিকৃতি। এছাড়া মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরিতেও নানা অসংগতির দরুন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পড়ুয়ারা। এভাবে চলতে থাকলে  শিক্ষার সামগ্রিক মানের অবনমন ঘটবে এমন কথা বরাকবঙ্গের তরফে চেয়ারম্যান জৈনের কাছে তুলে ধরা হয়।

এসব বিষয়ের পাশাপাশি রাজ্যে শিক্ষা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রের জন্য একটি অনুবাদ পর্ষদ গঠন আবশ্যক হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয় এতে সরকারি স্তরে  অনুবাদের কাজটি উপযুক্ত মানে করা সম্ভব হবে। নবম ও দশম শ্রেণির দ্রুতপঠন গ্রন্থ ‘বৈচিত্র্যময় অসম’-এ বরাক উপত্যকার জনবিন্যাসের সঠিক চিত্রের পাশাপাশি উপত্যকায়  সুপ্রাচীনকাল থেকে বসবাসকারী বাঙালিদের যথাযথভাবে চিত্রায়িত করা হয়নি এ সম্পর্কেও দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এ নিয়ে ইতোপূর্বে সরকারি স্তরে চিঠি দেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত সংশোধন হয়নি বলেও বরাকবঙ্গের তরফে চেয়ারম্যান জৈনকে জানানো হয়।

২০১৭ সাল থেকে বরাকবঙ্গ পরিচালিত দূরশিক্ষা কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনায় এক বছরের বাংলা ডিপ্লোমা কোর্সের পাঠদান ও পরীক্ষা গ্রহণ ব্যবস্থার বিষয়গুলো সম্পর্কে চেয়ারম্যান রমেশচন্দ্র জৈনকে বৈঠকে অবহিত করে এ ব্যাপারে সম্মেলনকে দায়িত্ব দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়। বলা হয় এই কোর্সটি চালু হওয়ার ফলে বহু মেধাবী পড়ুয়া জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এদিনের বৈঠকে বরাকবঙ্গের তরফে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পরিতোষচন্দ্র দত্ত, দূরশিক্ষা কেন্দ্রের সঞ্চালক গৌতমপ্রসাদ দত্ত, শিক্ষা আধিকারিক ও কাছাড় জেলা সমিতির সভাপতি সঞ্জীব দেব লস্কর, জেলা সম্পাদক উত্তমকুমার সাহা, দূরশিক্ষা কেন্দ্রের বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিতোষ দে। চেয়ারম্যান রমেশচন্দ্র জৈনের সঙ্গে শিক্ষাবিভাগের আধিকারিকরা ছিলেন। পরে সম্মেলনের আমন্ত্রণে চেয়ারম্যান জৈন শিলচর বঙ্গভবনে এসে দূরশিক্ষা কেন্দ্রের পরীক্ষা গ্রহণ ব্যবস্থার নথিপত্র সরেজমিনে  দেখে  কেন্দ্রের কাজের প্রশংসা করেন। পরে বঙ্গভবন গ্রন্থাগার ও প্রেক্ষাগৃহ তিনি ঘুরে দেখেন। ওই সময় অন্যান্যদের সঙ্গে সম্মেলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিল পাল ও শিলচর শহর আঞ্চলিক সমিতির সভাপতি দীপক সেনগুপ্তও উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *