২ মার্চ : খামেইনির মৃত্যুর পর একের পর এক মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে ইরান। এবার আমেরিকার দোসর সৌদি আরবের উপরে আরও ভয়ঙ্কর আঘাত হানল ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের একটি বিশাল তেল কোম্পানি হল অ্যারামকো। সেই অ্যারামকোর রাস তানুরা তেল শোধনাগারে ড্রোন হামলা চালা ইরান।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্য়ম সূত্রে খবর, অ্যারামকোর ওই তেল শোধনাগারে আঘাত হেনেছে Shahed-136 ড্রোন। শেষ খবর, ওই হামলার জেরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে রাস তানুরা শোধনাগা। ফলে সৌদি ও বিশ্বে তেল সরবারহে বিশাল ধাক্ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্লুমবার্গের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই হামলার কারণে সৌদি আরবের রাস তানুরা শোধনাগারটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। হামলার ফলে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হলেও আগুন ছিল “অল্প এবং নিয়ন্ত্রণে”। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই রাস তানুুরা শোধনাগারে এই ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটল। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সামরিক বিমান হামলার জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইসরায়েলের ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে রাস তানুরা শোধনাগারটি চালায় ‘সৌদি আরামকো’। এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম এবং গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি টার্মিনাল। এই কেন্দ্রটি অপরিশোধিত তেল উৎপাদন এবং পরিশোধন-উভয় কাজের জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রিপোর্ট অনুযায়ী, এখানে প্রতিদিন ৫,৫০,০০০ ব্যারেলেরও বেশি তেল পরিশোধন করা সম্ভব।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “সৌদি আরব রাজ্য ইরানের এই নগ্ন ও কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান জানাচ্ছে।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই হামলা কোনো অজুহাতে বা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। বিশেষ করে ইরান ভালো করেই জানত যে, সৌদি আরব আগেই নিশ্চিত করেছিল যে তারা তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর কোনো হামলা চালাতে দেবে না। এই হামলার প্রতিবাদে সৌদি কর্তৃপক্ষ রিয়াদে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আলিরেজা এনায়াতিকে তলব করেছে।




