২ মার্চ : পশ্চিম এশিয়ায় ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার ত্রিমুখী সংঘর্ষে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ। এই আবহে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিদেশে আটকে পড়া লক্ষ লক্ষ ভারতীয়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত তৎপর কেন্দ্র। রবিবার রাতে রাজস্থান ও গুজরাট সহ একাধিক রাজ্যের সফর কাটছাঁট করে তড়িঘড়ি দিল্লি ফেরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রাতেই তিনি মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকেন।
রবিবার রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ দিল্লিতে পৌঁছান মোদি। এরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শা, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনকে নিয়ে বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং সিডিএস জেনারেল অনিল চৌহান। বৈঠকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর পর তৈরি হওয়া ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতের বিদেশনীতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয় বলে জানা গিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাণিজ্যে যে প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইরানে প্রায় ১০ হাজার এবং ইজরায়েলে প্রায় ৪০ হাজার ভারতীয় রয়েছেন। সব মিলিয়ে গোটা আরব দুনিয়ায় প্রায় ৯০ লক্ষ ভারতীয়র বসবাস। বর্তমানে আকাশপথ বন্ধ থাকায় বহু মানুষ দুবাই ও দোহার বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, নাগরিকদের নিরাপত্তাই অগ্রাধিকার। প্রয়োজনে অতীতে ইয়েমেন বা ইরাকের মতো বৃহৎ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তাঁদের দেশে ফেরানো হবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্তর্জাতিক স্তরে দৌত্য শুরু করেছেন মোদি। তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানান, ‘আরবদুনিয়ার বর্তমান অবস্থা নিয়ে নেতানিয়াহুর (Benjamin Netanyahu) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।’ ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে সাধারণ মানুষের জীবনকে গুরুত্ব দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতি ঘোষণার অনুরোধ জানিয়েছেন মোদি।
পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গেও কথা বলেন তিনি। আমিরশাহীতে হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় শোকপ্রকাশের পাশাপাশি সেখানে থাকা ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ধন্যবাদ জানান মোদি।
খবর : উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল।



