বরাক তরঙ্গ, ১ মার্চ : গ্রামীণ পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসচেতনতা জোরদার করতে আসাম বিশ্ববিদ্যালয় ‘ইপিক্স ইন আইইইই’ প্রকল্পের অধীনে ‘রুরাল এডুকেশনাল অ্যাডভান্সমেন্ট ফর কমিউনিটি হেলথ (রিচ)’ নামে এক ডিজিটাল উদ্যোগ চালু করেছে। শনিবার বড়জলেঙ্গার বিবেকানন্দ কেন্দ্র বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই ওয়েবঅ্যাপের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। প্রযুক্তিনির্ভর ও সম্প্রদায়কেন্দ্রিক এই উদ্যোগের লক্ষ্য গ্রামীণ অঞ্চলে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টি সংক্রান্ত জ্ঞানের ঘাটতি পূরণ করা।
অনুষ্ঠানে ওয়েবঅ্যাপটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থ। উপস্থিত ছিলেন রোজকান্দি চা বাগানের জেনারেল ম্যানেজার ঈশ্বরভাই উবাদিয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব টেকনোলজির ডিন অধ্যাপক সুদীপ্ত রায়, বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ পার্থসারথি দেব প্রমুখ। প্রায় ১২০ জন অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বক্তব্য রাখতে গিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক পন্থ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রচলিত সম্প্রসারণমূলক কার্যক্রমের গণ্ডি ছাড়িয়ে সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ, টেকসই ও পুনরাবৃত্তিযোগ্য প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তিনি এও জানান, বর্তমান সময়ে প্রায় ৯৫ শতাংশ রোগ জীবনযাত্রার ধরণজনিত কারণে সৃষ্টি হয়, ফলে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যশিক্ষা অত্যন্ত জরুরি। ঈশ্বরভাই উবাদিয়া এই প্রকল্পকে চা-বাগান ও গ্রামীণ এলাকার স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী করার এক দূরদর্শী পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
‘রিচ–ইপিক্স’ প্রকল্পটি আন্তঃবিভাগীয় অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা ও শিক্ষার্থীদের সামাজিক দায়বদ্ধ উদ্ভাবনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রকল্পের উপদেষ্টা অধ্যাপক মৌসুম হ্যান্ডিক, প্রযুক্তিগত প্রধান ড. অর্ণব পাল ও সমন্বয়কারী ড. লালজো এস. থাংজমের নেতৃত্বে কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। এছাড়াও শিক্ষার্থী কমলেশ দেবনাথ, সৃজিনজয় দাস ও অবন্তিকা লাংথাসা ওয়েবঅ্যাপের নকশা, উন্নয়ন ও সম্প্রদায়ভিত্তিক প্রশিক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সিটিজেন ফাউন্ডেশন নামের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সমন্বয়কারী নবকিশোর আকুরাও স্থানীয় অংশীদার হিসেবে সহযোগিতা করেন।
উদ্যোক্তারা জানান, ‘রিচ’ ওয়েবঅ্যাপের বিশেষত্ব হল এর সুপারিশসমূহ সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় সামাজিক-অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটভিত্তিক। সাধারণ পুষ্টি-অ্যাপের মতো নির্দিষ্ট খাদ্যতালিকা নয়, বরং বড়জলেঙ্গা বাজার ও বরাক উপত্যকায় সহজলভ্য খাদ্যসামগ্রীকে ভিত্তি করে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি পরামর্শ প্রদান করা হয়। এর ফলে ব্যয় সাশ্রয়ী, সংস্কৃতিসম্মত ও বাস্তবসম্মত প্রয়োগ নিশ্চিত হবে।
ডিজিটাল উদ্ভাবনের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিষয়ে সক্ষম করে তোলার এই উদ্যোগ ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ এবং ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ।



