জাতীয় বিজ্ঞান দিবসে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন

Spread the news

পিএনসি, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১ মাৰ্চ : আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিদ্যা বিভাগ জাতীয় বিজ্ঞান দিবস ২০২৬ উপলক্ষে “বিকশিত ভারত: বিজ্ঞান, স্থায়িত্ব ও প্রজ্ঞাবান স্বাস্থ্যপরিষেবা সমাধান” বিষয়ক একদিবসীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনের সফল আয়োজন করে। সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল বহুশাস্ত্রীয় আলোচনা উৎসাহিত করা এবং নূতন বৈজ্ঞানিক প্রয়োগের মাধ্যমে উন্নত, স্থিতিশীল ও সুস্বাস্থ্যসমৃদ্ধ ভারত গঠনের উপায় অনুসন্ধান।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপাচার্য রাজীবমোহন পন্থ। তিনি বিকশিত ভারতের স্বপ্নপূরণে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও আন্তঃবিভাগীয় গবেষণার অপরিহার্যতা নির্দেশ করেন এবং বিভাগীয় প্রধান দিবাকর কুমারের প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে গবেষণা ও উন্নয়ন অধিষ্ঠাতা এবং গুণমান নিরীক্ষা কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক পীযূষ পাণ্ডে উপস্থিত থেকে বিষয়ের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন।
কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য শঙ্করকুমার ঘোষ আলোচ্য বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে বক্তৃমণ্ডলীর বৈচিত্র্যের প্রশংসা করেন। জীবনবিজ্ঞান অনুষদের অধিষ্ঠাতা অধ্যাপক পিবি মজুমদার এবং প্রাক্তন অধিষ্ঠাতা অধ্যাপক সুপ্রিয় চক্রবর্তীর উপস্থিতি অনুষ্ঠানে বিশেষ গৌরব সংযোজন করে।

স্বাগত ভাষণে অধ্যাপক দিবাকর কুমার সম্মেলনের লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে সমসাময়িক স্বাস্থ্যসমস্যা নিরসনে বহুশাস্ত্রীয় সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকবৃন্দ—মহুয়া সেনগুপ্ত, ইন্দু শর্মা, অমিতাভ ভট্টাচার্য, অবিনাশ কুমার, অনুপম বরা, রবি প্রকাশ আর্য, রিঙ্কু রবীদাস ও সায়ক দাস—সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। বিভাগের শিক্ষার্থী ও গবেষকরা পরিকল্পনা ও পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং বৈজ্ঞানিক আলোচনায় উৎসাহভরে অংশ নেন।

বৈজ্ঞানিক অধিবেশনসমূহে দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট বক্তৃবৃন্দ স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের অগ্রসর গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন সম্পর্কে মূল্যবান মতামত প্রদান করেন। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের ডাঃ বৈশালী কাপুর ক্যান্সার চিকিৎসায় বিকিরণ-নির্দেশিত প্রতিরোধী যৌগের প্রয়োগ নিয়ে আলোকপাত করেন। ত. নবনিতকুমার দুবে (Infinity Insights Biotechnology Co. Ltd.) ডায়াবেটিসজনিত অস্থিসন্ধি রোগে স্টেমকোষ চিকিৎসার সম্ভাবনা ব্যাখ্যা করেন। শিলচর এনআইটির ড. শঙ্কর কে বেদনামাপনের যন্ত্রভিত্তিক পদ্ধতি বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। ডাঃ তরুণকুমার ভাট (Central University of Rajasthan) ওষুধ-সংযোজনের তাপগত বৈশিষ্ট্য আলোচনা করেন। Dr. R. Murugan সাইবার-ভৌত পদ্ধতি ও যন্ত্রবুদ্ধি প্রয়োগে চক্ষুরোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। ডাঃ সুভদ্র গোয়ালা  (Cachar Cancer Hospital & Research Centre) জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে মানব প্যাপিলোমা ভাইরাসের প্রাথমিক শনাক্তকরণের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।

সম্মেলনের প্রতিটি অধিবেশন ছিল জ্ঞানসমৃদ্ধ ও প্রয়োগনির্ভর। অনুবর্তী গবেষণা, ক্যান্সারবিদ্যা, পুনর্জনন চিকিৎসা, ওষুধ আবিষ্কার, সাইবার-ভৌত ব্যবস্থা ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যরক্ষা প্রভৃতি বিষয় নিয়ে গভীর পর্যালোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলন বৈজ্ঞানিক মতবিনিময় ও সহযোগিতার এক প্রাণবন্ত ক্ষেত্ররূপে প্রতিষ্ঠিত হয়ে স্মার্ট, স্থিতিশীল ও সুস্বাস্থ্যসমৃদ্ধ বিকশিত ভারতের স্বপ্নপূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *