সরকারি সেলুন : দলিতদের চুল কাটার অধিকার নিশ্চিত করতে অনন্য উদ্যোগ

Spread the news

১ মার্চ : কর্ণাটকের গদগ জেলার সিঙ্গাতালুর গ্রামে  এক ব্যতিক্রমী ছবি। দেওয়ালে ঝোলানো বড় আয়নার সামনে চেয়ারে বসে এক যুবক, আর তাঁর চুল কাটছেন ‘সরকারি নাপিত’। পাশের বেঞ্চে অপেক্ষা করছেন আরও কয়েকজন। এই সেলুন পরিচালনা করছেন রাজ্য সরকারের উদ্যোগে নিযুক্ত নাপিতরা।

এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে একটি দুঃখজনক ঘটনা। কয়েক সপ্তাহ আগে গ্রামের একটি সেলুনের মালিক দলিতদের চুল কাটতে অস্বীকার করেছিলেন। একই অভিজ্ঞতা অর্জন করে স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হন গ্রামের যুবকরা। প্রশাসনের সতর্কবার্তার পরও স্থানীয় সেলুনগুলো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করায় জেলা সমাজ কল্যাণ দপ্তর সরাসরি ব্যবস্থা নেয়। গত বৃহস্পতিবার সিঙ্গাতালুরে জেলা সমাজকল্যাণ বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর নন্দা হানাবাত্তি সেলুনের উদ্বোধন করেন। ঘোষণা করা হয়, এই সেলুনে দলিতরা চুল-দাড়ি কাটতে পারবেন এবং অন্যান্য গ্রামবাসীর জন্যও পরিষেবা প্রদান করা হবে। সেলুন পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাসভরাজ হাডপাদাকে, যিনি দলিতদের প্রতি কোনও বৈষম্য দেখান না। তবে তিনি পাশের গ্রাম টিপ্পাপুরের বাসিন্দা। দলিতদের চুল-দাড়ি কাটতে তাঁর আপত্তি না থাকলেও সিঙ্গাতালুর গ্রামের কেউ এই সেলুন চালাতে রাজি হননি।

গ্রামবাসী এবং সমাজকর্মীরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যাঁরা আগে দলিতদের চুল কাটতে অস্বীকার করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন। সমাজকর্মী কারিয়াপ্পা গুড়িমানি বলেন, ‘শুধু সেলুন নয়, বাজার, মুদিখানা এবং অন্যান্য দোকানগুলোতেও দলিতরা বৈষম্যের শিকার হন। সরকারের আরও কড়া পদক্ষেপ প্রয়োজন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *