২২ এপ্রিল : ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার আবহে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ আপাতত বহাল থাকছে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা অভ্যন্তরীণভাবে চরম বিভক্তির মুখে। তাঁর বক্তব্য, পাকিস্তান নেতৃত্বের অনুরোধে সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখা হয়েছে, যাতে ইরানের প্রতিনিধিরা ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে পারে। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, মার্কিন সেনাবাহিনী যেকোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে এবং তেহরানের তরফে চূড়ান্ত প্রস্তাব না আসা পর্যন্ত এই অবস্থান বজায় থাকবে।
অন্যদিকে, মার্কিন সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আর্গাছি মার্কিন নৌ-অবরোধকে ‘যুদ্ধের সামিল’ বলে আখ্যা দেন। ইরানের অভিযোগ, বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে দিয়ে আমেরিকা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। এমনকি একটি আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থার দাবি, পাকিস্তানে প্রস্তাবিত পরবর্তী দফার বৈঠকে যোগ নাও দিতে পারে ইরান, কারণ মার্কিন অবস্থান আলোচনার পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের উপদেষ্টাদের একাংশের মতে, এই যুদ্ধবিরতি আসলে কৌশলগত পদক্ষেপ। তাঁদের দাবি, ইরানকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলার জন্য সময় নিচ্ছে ওয়াশিংটন। যদিও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেছেন, বর্ধিত সময়সীমার মধ্যেই একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নির্ধারিত ইসলামাবাদ সফর আপাতত বাতিল করা হয়েছে। হোয়াইট হাউস সূত্রে জানানো হয়েছে, তিনি আপাতত ওয়াশিংটনেই অবস্থান করবেন। সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি সত্ত্বেও পারস্য উপসাগরে উত্তেজনা পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি। ট্রাম্পের এই কৌশলগত পদক্ষেপ ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।



