১ মার্চ : ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত হয়েছেন বলে সরকারি সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে পুরো দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, খামেনি শাহাদাত বরণ করেছেন এবং তার মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, শনিবার সকালে তেহরানের নিজ কার্যালয়ে হামলার সময় খামেনি নিহত হন। হামলার পেছনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যোগসূত্র রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মিডিয়া জানিয়েছে। এই হামলার ফলে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর তা প্রভাব ফেলতে পারে।
রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, খামেনি কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন এবং নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করছিলেন। রেভুল্যুশনারি গার্ডের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা একজন মহান নেতাকে হারিয়েছি। তিনি ছিলেন আত্মার পবিত্রতা, ঈমানের দৃঢ়তা, সৃজনশীল চিন্তা এবং আল্লাহর পথে সাহসী জিহাদের একজন অনন্য নেতা।”
ফারস নিউজ এজেন্সি জানায়, খামেনির মৃত্যুতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাথে সাত দিনের সরকারি ছুটিও ঘোষিত হয়েছে। তেহরানভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, হামলায় খামেনির মেয়ে, জামাতা ও নাতিও নিহত হয়েছেন। খবরটি প্রথম প্রচার করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি নিজের ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টে খামেনির নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বিবিসি এবং সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার (১ মার্চ) থেকে ইরানে রাষ্ট্রীয় শোক শুরু হয়েছে। কাতারভিত্তিক আলজাজিরাও সংবাদ প্রকাশ করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, হামলায় খামেনির পরিবারও নিহত হয়েছেন। রয়টার্স জানিয়েছে, হামলার সময় খামেনি নিজ কার্যালয়ে ছিলেন এবং তৎক্ষণাৎ আহত হয়ে শহিদ হয়েছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু দেশজুড়ে উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক মহলেও শোকের প্রকাশ ঘটিয়েছে। শীর্ষ নেতার অনুপস্থিতিতে দেশীয় প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিষয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
তথ্যসূত্র : বিবিসি, সিএনএন, আল-জাজিরা, খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।



