মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১ জুন : আসন্ন মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে বরাক উপত্যকার রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। আগামী ৫ জুন সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—বরাক থেকে কার মাথায় উঠবে মন্ত্রিত্বের মুকুট?
রাজনৈতিক মহলে আলোচনায় রয়েছে একাধিক নাম। প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল, অভিজ্ঞ বিধায়ক কৌশিক রাইয়ের পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন মুখ হিসেবে উঠে আসছে কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ, রাজদীপ রায় এবং যুব বিধায়ক মিলন দাসের নাম। তবে শেষ মুহূর্তে সম্পূর্ণ নতুন কোনও মুখও সামনে আসতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ শুধুমাত্র প্রশাসনিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য নয়, বরং ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ফলে সম্ভাব্য মন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে দলের অন্দরে চলছে বিস্তর হিসাব-নিকাশ।
দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে যে জনসংখ্যা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও রাজনৈতিক গুরুত্বের তুলনায় বরাক উপত্যকা রাজ্যের ক্ষমতার কাঠামোয় পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব পায় না। অথচ রাজ্যের অর্থনীতি, শিক্ষা, ভাষা-সংস্কৃতি এবং ভোট রাজনীতিতে বরাকের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে মন্ত্রিসভায় বরাকের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি বহুদিনের।
মন্ত্রিত্বের দৌড়ে অন্যতম আলোচিত নাম কৃষ্ণেন্দু পাল। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা তাঁকে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। পাশাপাশি দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্য ও তৃণমূল স্তরে গ্রহণযোগ্যতাও তাঁর পক্ষে যেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে কৌশিক রায়ও রয়েছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে তাঁর অবস্থান তাঁকে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় এগিয়ে রেখেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দল যদি সাংগঠনিক ভারসাম্যকে গুরুত্ব দেয়, তাহলে কৌশিক রাইয়ের সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল।
তবে রাজনৈতিক মহলের নজর এবার নতুন মুখের দিকেও। কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ, রাজদীপ রায় এবং মিলন দাসের নাম বারবার উঠে আসছে সম্ভাব্য তালিকায়। পর্যবেক্ষকদের মতে, তরুণ ও নতুন নেতৃত্বকে মন্ত্রিসভায় স্থান দিলে তা আগামী প্রজন্মের ভোটারদের কাছে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিতে পারে। একইসঙ্গে দলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
সূত্রের খবর, সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণকে সামনে রেখে দিল্লি থেকে দিসপুর পর্যন্ত রাজনৈতিক যোগাযোগ ও তৎপরতা বেড়েছে। বিভিন্ন নেতা নিজেদের সাংগঠনিক প্রভাব, রাজনৈতিক শক্তি এবং আঞ্চলিক গুরুত্ব তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের হাতেই থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাও কম নয়। বরাকবাসীর দাবি, মন্ত্রী যিনিই হন না কেন, তাঁকে বন্যা ও নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় সড়কের উন্নয়ন, রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ, শিলচর বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণ, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়ন এবং সীমান্তবর্তী এলাকার অবকাঠামোগত বিকাশের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, মন্ত্রিত্ব শুধুমাত্র রাজনৈতিক মর্যাদার বিষয় নয়; বরং একটি অঞ্চলের উন্নয়নের গতি নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ফলে যিনি মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পাবেন, তাঁর কাঁধেই থাকবে বরাক উপত্যকার লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রত্যাশার ভার।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটতে পারে আগামী ৫ জুন। সেদিনই স্পষ্ট হবে বরাক থেকে কার ভাগ্যে জুটছে মন্ত্রিত্বের তকমা। ততদিন পর্যন্ত রাজনৈতিক মহলে জল্পনা অব্যাহত থাকলেও একথা স্পষ্ট যে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণকে ঘিরে বরাকের রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছেই।



