১৩ জানুয়ারি : পশ্চিমবঙ্গে থাবা বসাল প্রাণঘাতী নিপা ভাইরাস। সোমবার রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের একটি হাসপাতালে কর্মরত দুই নার্স এই মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বর্তমানে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ-তে (ICU) তাঁদের চিকিৎসা চলছে। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
সোমবার নবান্নে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যসচিব নন্দিনী ভট্টাচার্য এবং স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, আক্রান্তদের মধ্যে একজনের বাড়ি নদীয়ায় এবং অন্যজনের বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায়। আক্রান্ত নার্সরা গত কয়েক দিনে কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন এবং কাদের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে ‘কন্ট্রাক্ট ট্রেসিং’-এর কাজ শুরু হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা, নদীয়া ও পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। স্বাস্থ্য দপ্তরের একটি বিশেষজ্ঞ দল ইতিমধ্যেই হাসপাতাল পরিদর্শন করে চিকিৎসার রণকৌশল নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বাস্থ্যসচিবের সঙ্গে কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিবও। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম জানিয়েছেন, নিপা ভাইরাস মূলত বাদুড় থেকে ছড়ায়। তাই বাদুড়ের মুখ দেওয়া ফল বা বাদুড় খায় এমন কোনও খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। এটি মানুষ থেকে মানুষের শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং অত্যন্ত প্রাণঘাতী। আক্রান্তদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইসোলেশনে রাখাই এই রোগ প্রতিরোধের প্রধান উপায়।
বাংলায় নিপা ভাইরাসের প্রকোপ এই প্রথম নয়। ২০০১ সালে শিলিগুড়িতে এই ভাইরাস মহামারির আকার ধারণ করেছিল। সে বছর জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল এই ভাইরাসের সংক্রমণে। দীর্ঘ সময় পর ফের কলকাতায় দুই আক্রান্তের খোঁজ মেলায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন সাধারণ মানুষ।
খবর : উত্তরবঙ্গ সংবাদ ডিজিটাল।



