পিএনসি, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১ জুন : আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ বিষয়ে একটি একদিবসীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচী সাফল্যের সাথে অনুষ্ঠিত হলো। সোমবার আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জ্ঞান ভারতম্ ক্লাস্টার কেন্দ্র’-এর উদ্যোগে এই তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে মুখ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের অবসরপ্রাপ্তা অধ্যাপিকা স্নিগ্ধা দাস রায়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃত বিভাগের অধ্যক্ষ শান্তি পোখরেল এবং জ্ঞান ভারতম্ ক্লাস্টার কেন্দ্রের সংযোজক তথা নির্দেশক ড. গোবিন্দ শর্মা প্রমুখ।
দিনভর চলা এই কর্মসূচীতে মূলত আমাদের জাতীয় সম্পদ তথা প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলির যথাযথ সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের সূচনা পর্বে সংস্কৃত বিভাগের অধ্যক্ষ শান্তি পোখরেল তাঁর বক্তব্যে ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরায় পাণ্ডুলিপির অপরিসীম মহত্ত্বের কথা তুলে ধরেন। মুখ্য অতিথি অধ্যাপিকা স্নিগ্ধা দাস রায় বিভিন্ন ভাষায় রচিত প্রাচীন পাণ্ডুলিপিগুলির পাঠোদ্ধার এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণের ওপর বিশেষ আলোকপাত করেন।

“বহু প্রাচীন মূল্যবান পাণ্ডুলিপি, যা আগামী কয়েক বছরের মধ্যে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, সেগুলিকে ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে চিরকালের জন্য সুরক্ষিত করা সম্ভব।” ড. গোবিন্দ শর্মা, নির্দেশক, জ্ঞান ভারতম্ ক্লাস্টার কেন্দ্র।
সংস্কৃত বিভাগের অধ্যাপক তথা জ্ঞান ভারতম্ ক্লাস্টার কেন্দ্রের নির্দেশক ড. গোবিন্দ শর্মা তাঁর বক্তব্যে পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণের বিভিন্ন আধুনিক উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বিশেষ জোর দেন পাণ্ডুলিপিগুলির ‘ডিজিটাইজেশন’ এর উপর। তিনি জানান, প্রযুক্তির সহায়তায় এই অমূল্য সম্পদগুলিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য চিরতরে সংরক্ষণ করা সম্ভব।
পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ বিষয়ক এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ শিবিরে সংস্কৃত বিভাগের গবেষক-গবেষিকা এবং স্নাতকোত্তর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রছাত্রী মিলিয়ে সর্বমোট প্রায় ২০ জন উৎসাহী শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে প্রাচীন ঐতিহ্য রক্ষায় এই ধরণের উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে মনে করছেন শিক্ষামহল।



