বরাক তরঙ্গ, ৮ জানুয়ারি : রাজ্যপাল লক্ষ্মণ প্রসাদ আচার্য বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী কর্মসূচিতে মরিগাঁও জেলা ভ্রমণ করেন। এদিন রাজ্যপালে মরিগাঁওয়ের বিভিন্ন কর্মসূচি অংশগ্রহণ করেন। প্রথমে তিনি ঝারগাঁওয়ে অবস্থিত কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে কেন্দ্রের চত্বরে অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে নির্মিত অমৃত সরোবর প্রকল্প পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।কেন্দ্রের চত্বরে বিভিন্ন বিভাগের বিক্রয়কেন্দ্র নিয়ে একটি প্রদর্শনীরও ব্যবস্থা করা হয়। প্রদর্শনীতে তিনি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য, জৈব চাষের ফসল, হস্ততাঁত ও বস্ত্রশিল্প বিভাগের অধীনে শিল্পীদের নিজস্ব উৎপাদিত কাপড় ও অন্যান্য পণ্য তথা অন্যান্য বিভাগের কাজকর্ম তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। এরপরেই তিনি বিভিন্ন বিভাগের অধীনে সরকারি প্রকল্পের দ্বারা উপকৃত সুবিধাভোগীদের সঙ্গে “গ্রামে রাজ্যপাল” শীর্ষক একটি মতবিনিময় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, রাজভবনকে এখন জনভবন হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার জনসাধারণের কল্যাণের জন্য অনেক প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পগুলির সুবিধা নিতে এগিয়ে আসতে তিনি জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি, জল জীবন অভিযান ইত্যাদি প্রকল্পের দ্বারা জনসাধারণ উপকৃত হচ্ছেন কি না এই প্রসঙ্গে মতবিনিময় করার সঙ্গে সঙ্গে যক্ষ্মামুক্ত ভারত অভিযানের সফল রূপায়ণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি প্রতিটি অভিভাবককে সন্তানকে ভালো করে পড়ানোর জন্য দৃঢ় সংকল্প নিতে আহ্বান জানান। নিজের গৃহ নির্মাণের নামে সন্তানের পড়াশোনার প্রতি নজর না দেওয়া অথবা ছেলে-মেয়ের হাতে মোবাইল ফোন, মোটর সাইকেল দিয়ে খবর না নেওয়া অভিভাবকের দায়িত্ব নয় বলে দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন।

তিনি বলেন, সন্তানকে প্রাকৃতিক জীবন যাপনে শেখানো উচিত। এই অনুষ্ঠানেই তিনি নিক্ষয় মিত্র কর্মসূচির অধীনে যক্ষ্মা রোগীর জন্য পুষ্টিকর খাদ্যের প্যাকেট তুলে দেন। এরপর তিনি কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একটি পর্যালোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন। পর্যালোচনা সভায় মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা রাজ্যপালকে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে সাক্ষাৎ করেন। জেলা কমিশনার অনামিকা তেওয়ারী রাজ্যপালকে মরিগাঁও জেলা সংক্রান্ত একটি সামগ্রিক ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগের মুখ্য আধিকারিকে নিজ নিজ বিভাগের কাজের অগ্রগতির বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন বিভাগ, জল জীবন অভিযান, যক্ষ্মামুক্ত ভারত অভিযান, নেশামুক্তি অভিযান, আয়ুষ্মান ভারত ইত্যাদির বিস্তারিত বিবরণ নেন। তিনি প্রতিটি কর্মকর্তাকে স্বচ্ছতাকে নিজের একটি স্বভাব করে নিতে আহ্বান জানান। রাজ্যপাল যোগাভ্যাস করেন অমৃত সরোবরের পাড়ে, সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান শুনতেও বলেন। এর পূর্বে রাজ্যপাল জাগীরোডের নিজরাপাড়ায় মাছ উৎপাদন কেন্দ্র একটি পরিদর্শন করেন। তারপরেই তিনি কুমৈ আঞ্চলিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

তিনি ঝারগাঁওয়ের হস্ততাঁত কেন্দ্র “এনাজুরি” পরিদর্শন করে শিল্পীদের সঙ্গে মতবিনিময় করার পাশাপাশি টাটা সেমি কন্ডাক্টর প্রকল্পও পরিদর্শন করেন। এবং রাজ্যপাল বিশিষ্ট ক্রীড়াবিদ অন্ধরুরাম দাসের বাসগৃহে গিয়ে তাকে অভিবাদন জানান। আজকের অনুষ্ঠানে মরিগাঁও পুলিশ সুপার প্রকাশ সোনোয়াল, জেলা উন্নয়ন কমিশনার অর্পা বাগলারি, জেলা পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক অনন্ত কুমার গগৈ, অতিরিক্ত জেলা কমিশনার রাকেশ ডেকা ও অনসূয়া শর্মা, সমজেলা কমিশনার হৃদয়কুমার দাস ও শিল্পিকা কলিতা এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিক ও কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রটির মুখ্য আধিকারিক বিজ্ঞানী রিজুস্মিতা ডেকা উপস্থিত ছিলেন।



