বরাক তরঙ্গ, ৫ নভেম্বর : মণিপুরের ননি জেলায় দুই প্রতিদ্বন্দ্বী জঙ্গি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন নিহত এবং দু’জন আহত হওয়ার ঘটনার একদিন পর, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিরাপত্তা অভিযান শুরু করল রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। জেলার নুংবা ও কেকরু নাগা এলাকায় ৫০০-রও বেশি নিরাপত্তাকর্মীকে নিয়ে শুরু হয় যৌথ ঘেরাও ও তল্লাশি অভিযান।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৩টা নাগাদ জেলা পুলিশ, সিআরপিএফ, কোবরা এবং অসম রাইফেলসের জওয়ানদের নিয়ে এই অভিযান শুরু হয়। অভিযানের সময় এলাকার বাসিন্দাদের পরিচয়পত্র ও পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক আধিকারিক।

উল্লেখ্য, বুধবার ভোর প্রায় ৪টা নাগাদ খৌপুম এলাকার তাওদাইজাং গ্রামে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী নাগা জঙ্গি গোষ্ঠীর মধ্যে গুলির লড়াই শুরু হয়। এই সংঘর্ষে জেলিয়াংরং ইউনাইটেড ফ্রন্ট (জেনচুই) সহ একাধিক সংগঠনের সদস্যরা জড়িত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। জেডইউএফ (জেনচুই) দাবি করেছে, নিহতদের মধ্যে দু’জন তাদের সংগঠনের সদস্য। তাঁদের নাম এম থাইমেই এবং জি কামসন বলে শনাক্ত করা হয়েছে।

সংগঠনটির অভিযোগ, এই সংঘর্ষে এনএসসিএন (আইএম), জেডইউএফ (কামসন গোষ্ঠী) এবং এনএসসিএন-কে (নিকি সুমি গোষ্ঠী) জড়িত ছিল। তবে এই অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অন্যদিকে, নিহত তৃতীয় ব্যক্তির নাম আইহুং খুম্বা। তিনি পুংমন চিংচেন গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। তবে তাঁর কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগসূত্র ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সংঘর্ষের পর এলাকায় নতুন করে হিংসা ছড়িয়ে পড়া রুখতে স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে মহিলারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁরা মাইকযোগে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সদস্যদের গুলি চালানো বন্ধ করার আবেদন জানান বলে জানিয়েছেন সরকারি আধিকারিকরা।

এদিকে, এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য হিংসা প্রতিরোধের লক্ষ্যে নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি অভিযান আরও জোরদার করেছে। পাশাপাশি বাসিন্দাদের পরিচয় যাচাইয়ের কাজও চলছে।



