বরাক তরঙ্গ, ৫ নভেম্বর : চলে গেলেন কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, সমাজকর্মী তথা বরাক তথা উত্তর পূর্বাঞ্চলের ক্যান্সার রোগীদের অন্যতম ভরসার কেন্দ্রবিন্দু কল্যাণ কুমার চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় নিজ কাটিগড়া বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। এ দিন সকাল ১০টা৩০ মিনিটে কাটিগড়ায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। তিনি ক্যান্সার রোগে ভুগছিলেন।
কল্যাণ কুমার চক্রবর্তী যিনি শংকর চক্রবর্তী নামেও পরিচিত। তিনি কটিগড়ার সিদ্ধেশ্বর হাইস্কুল (বর্তমান উচ্চতর স্কুল) থেকে মেট্রিক পাস করার পর শিলচরের জিসি কলেজ থেকে ইন্টারমেডিয়েট ও কাছাড় কলেজ থেকে বিএ পাস করেন। এরপর শিক্ষকতা শুরু করেন। প্রথম চার বছর কাটিগড়ার বুরুঙ্গা মধ্য ইংরাজি বিদ্যালয়। অতঃপর শ্রীগৌরী কৃষ্ণময়ী মধ্যবঙ্গ বিদ্যালয়ে আজীবন শিক্ষকতা করে ২০০৭ খ্রিস্টাব্দের ২৮ ফেব্রুয়ারি সেখান থেকে অবসর। ছাত্রজীবন থেকে বিভিন্ন সেবামূলক সংগঠনের প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী ছিলেন। কাটিগড়ার সিদ্ধেশ্বর প্রগতিসংঘের একটানা ত্রিশ বছর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন, কাটিগড়া লিগের এইড সেলের দায়িত্ব চার বছর পালন করেন। মানুষের মধ্যে ক্যান্সার নিয়ে সচেতনা গড়ে তুলতে চেতনা নামক স্বেচ্ছা সেবী সংগঠন গড়ে তোলেন। কাছাড়া জেলার সকল সেচ্ছাসেবী সংগঠনকে এক ছত্রছায়ায় আনার জন্য গড়ে তোলা হয় কাছাড় গ্রমীণ সেচ্ছাসেবী সংগঠন।

কল্যাণ কুমার চক্রবর্তীর একটি উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব হল বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের কাটিগড়া সপ্তম অধিবেশন করার জন্য যে অভ্যর্থনা সমিতি গঠন করা হয়েছিল তিনি সেই সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দে ১৮ এবং ১৯ মে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গ্রামে এই প্রথম বরাকবঙ্গের অধিবেশনের আয়োজন ছিল। ওই একই বছরের ডিসেম্বর মাসে তাঁর উদ্যোগে শিলচরের নেহরু যুবকেন্দ্র ও ভারত সরকারের ক্ষেত্রে প্রচার বিভাগের সহায়তায় কাটিগড়ায় উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় যুব উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে শিলচরে কাছাড় ক্যান্সার হাসপাতাল সোসাইটির জন্ম। এই ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় সমাজের সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ২০০৭ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসেই সোসাইটির অনুরোধে ক্যান্সার হাসপাতালের প্রশাসক হিসেবে যোগ দেন। আজ অবধি দিবারাত্র বিরামহীন ভাবে এই হাসপাতালের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। ২০০৭ খ্রিস্টাব্দে ১৩ জুন ডাঃ রবি কান্নান এই হাসপাতালে যোগ দেওয়ার পর রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়।

এ ছাড়া শিলচর শহরের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী, দুই পুত্র, পুত্রবধূ, নাতি-নাতনি ও অসংখ্য গুণমুগ্ধদের। তাঁর এই মৃত্যুতে পরিচিত মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।



