গুয়াহাটিতে বুলেট ট্রেন করিডর সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত, অসমের জন্য খুলছে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১ নভেম্বর : অসমের উন্নয়নের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উদ্যোগে প্রস্তাবিত বুলেট ট্রেন করিডর গুয়াহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উত্তর ভারতের প্রস্তাবিত এই হাইস্পিড রেল করিডর গুয়াহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হওয়ার খবরে অসম তথা সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত প্রাথমিক পরিকল্পনায় দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত বুলেট ট্রেন করিডর নির্মাণের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনায় গুয়াহাটির নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল না। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে গুয়াহাটির কৌশলগত গুরুত্ব এবং অসমের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে বিষয়টি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

অসমের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে গুয়াহাটি পর্যন্ত বুলেট ট্রেন করিডর সম্প্রসারণের দাবি জানান। এ বিষয়ে চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রকল্পটির প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। গুয়াহাটিকে এই জাতীয় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের বিষয়গুলিও তুলে ধরা হয়।
এরপর মুখ্যমন্ত্রীর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও হস্তক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩১ অক্টোবর কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অনুমোদনক্রমে প্রস্তাবিত বুলেট ট্রেন করিডর গুয়াহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারণের কথা ঘোষণা করেন।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, দিল্লি থেকে আগ্রা, কানপুর, লখনউ, অযোধ্যা, বারাণসী, প্রয়াগরাজ, পাটনা ও শিলিগুড়ি হয়ে গুয়াহাটি পর্যন্ত হাইস্পিড রেল যোগাযোগ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অসম তথা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি পর্যটন, বাণিজ্য, শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নতুন গতি আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় স্তরের এই বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পে গুয়াহাটিকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *