দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১ নভেম্বর : শ্রীভূমির সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রকৃত তথ্য ও সত্য উদ্ঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানাল বরাক ভ্যালি সিটিজেন্স ফোরাম। একই সঙ্গে শ্রীভূমিতে কারাবন্দি নির্দোষ যুবকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা যাবতীয় মামলা দ্রুত প্রত্যাহার এবং তাঁদের উপর পুলিশি নির্যাতনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও উঠল শিলচরের এক নাগরিক সভায়। রবিবার শিলচরে বরাক ভ্যালি সিটিজেন্স ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এই নাগরিক সভায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়। সভায় নির্দোষ যুবকদের উপর পুলিশি নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ জানান উপস্থিত নাগরিকরা। পাশাপাশি, ঘটনায় একাংশ জনপ্রতিনিধির ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ ও নিন্দা জানানো হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে নির্দিষ্ট দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি অসমের রাজ্যপালের কাছে পাঠানো হবে। এর প্রতিলিপি মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মার কাছেও প্রেরণ করা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজচিন্তক অধ্যাপক নিরঞ্জন দত্ত।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, শ্রীভূমির সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইতিহাসের আরেকটি কালো অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। তাঁর মতে, পুলিশি আচরণ সভ্যতার সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং একাংশ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির ভূমিকা বরাক উপত্যকার মানুষকে হতাশ করেছে। নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আনা এবং দোষী পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি। অন্যথায় পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন অধ্যাপক দত্ত।
সভায় প্রারম্ভিক বক্তব্য রাখেন ফোরামের মুখ্য আহ্বায়ক শংকর দে এবং সংগঠক তথা সাংবাদিক রাজু দাস। প্রবীণ সমাজকর্মী মুজিবুর রহমান বড়ভূঁইয়া বলেন, অশুভ শক্তির মোকাবিলায় বরাক উপত্যকার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একাংশের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যের ব্যাপারেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সমাজকর্মী জওহর গাঙ্গুলি পুলিশের পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিপ্লব পালচৌধুরী বলেন, যাবতীয় সংশয় দূর করতে মুখ্যমন্ত্রীকে এ ব্যাপারে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে হবে। সাংবাদিক নিখিল দাশের বক্তব্য, ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ না জেনেই ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার একাংশের মানুষ বিদ্বেষমূলক প্রচার চালিয়ে বরাকবাসীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন। এর যথাযথ বিচার হওয়া প্রয়োজন।

যোগাচার্য অনুপকুমার নাথ উৎসবের আবহে নিরপরাধ মানুষের উপর পুলিশি নির্যাতনের কারণ ও নেপথ্যের তথ্য প্রকাশের দাবি জানান। সমাজকর্মী রথীন্দ্র দাস বলেন, পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলার চেষ্টা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ভিডিও রেকর্ডিংগুলি প্রকাশ্যে না এলে অনেক তথ্যই অজানা থেকে যেত।
কবি ও সমাজকর্মী শতদল আচার্য কালীপুজোর মণ্ডপে মণ্ডপে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। বিএনএস প্রধান প্রীতম দেব শ্রীভূমির অসহায় ও বিপন্ন মানুষের পাশে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। সমাজকর্মী দীপন ভট্টাচার্য বরাক উপত্যকার মানুষকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়ার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। প্রসেনজিৎ দেব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দিবাকর ভট্টাচার্য সামগ্রিক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে সুবিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক শিবাশিস চক্রবর্তী, সঞ্জীব সিং, সমাজকর্মী দীপশিখা ভট্টাচার্য প্রমুখ। সভায় দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী শান্তিকুমার ভট্টাচার্য। সভা শেষে শংকর দে জানান, রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি পাঠানোর পরও উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যেতে বাধ্য হবেন। অন্যদিকে, রাজু দাস বলেন, মানুষের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ আগামী দিনে আরও বড় আকারে প্রকাশ পেতে পারে।



