১৪ অক্টোবর : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রাক্তন প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে হেনস্তার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন তাঁর সরকারের প্রাক্তন ১২ জন উপদেষ্টা। একই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে নিন্দা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীও। তাঁদের বক্তব্য, এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করছে।
প্রাক্তন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন ও ড. আসিফ নজরুল বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন, ড. ইউনুসকে হেনস্তার ঘটনায় প্রাক্তন উপদেষ্টারা যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। ইংরেজিতে দেওয়া ওই বিবৃতিতে তাঁরা অধ্যাপক ইউনুসকে লক্ষ্য করে চলমান হয়রানি, অনলাইনে অপপ্রচার এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণের ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যখন গভীর সংকটের মুখে ছিল, তখন অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পুনর্গঠনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও কিছু রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর পাশাপাশি শারীরিক হুমকিও দিচ্ছে। অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশের জনগণ ও তরুণদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত সংস্কার এবং মর্যাদার ঐতিহাসিক আকাঙ্ক্ষাকে ক্ষমতাচ্যুত শাসনব্যবস্থা ও তার সমর্থকদের অপপ্রচারের মাধ্যমে মুছে ফেলা যাবে না। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেছেন প্রাক্তন উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, সিআর আবরার, আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, এম সাখাওয়াত হোসেন, ফারুক-ই-আজম, ফরিদা আখতার, শারমিন এস মুরশিদ, মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

এদিকে, বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীও এ ঘটনার নিন্দা জানান। তিনি ড. ইউনুসকে হেনস্তার অপচেষ্টার জন্য ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লিগের নেতাকর্মীদের দায়ী করেন। তাঁর অভিযোগ, এ ধরনের আচরণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। রিজভী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেওয়ার কারণেই ড. ইউনূসকে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি শুধু সাবেক প্রধান উপদেষ্টাই নন, একজন নোবেলজয়ী ও বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব। তাঁর প্রতি অসম্মানজনক আচরণ ব্যক্তিকে হেয় করার পাশাপাশি বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের মর্যাদাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লিগের নেতাকর্মীদের প্রতিহিংসামূলক মনোভাবের পরিবর্তন হয়নি। তাঁর দাবি, দেশে-বিদেশে উসকানি এবং বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে মদদ দেওয়ার মাধ্যমে সেই রাজনীতি অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত সোমবার নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে থাকা অবস্থায় ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে ঘিরে আক্রমণাত্মক স্লোগান দেন একদল বিক্ষোভকারী। বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লিগের নেতাকর্মী বলে চিহ্নিত ওই বিক্ষোভকারীরা তাঁকে উদ্দেশ করে ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’সহ বিভিন্ন মন্তব্য করেন। ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নিন্দা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।


