মিলন দাসের হাত দিয়ে পত্রিকার মোড়ক উন্মোচন, প্রকাশিত দুই কাব্যগ্রন্থ

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১১ অক্টোবর : মহালয়ার  সন্ধ্যায় শনিবার  হাইলাকান্দির মৈত্রীভবনে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হলো ‘সাঁকো’ সাহিত্য পত্রিকার দ্বাবিংশতিতম বর্ষের পূজাসংখ্যা। শনিবার সন্ধ্যায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সাহিত্য, সংস্কৃতি, নৃত্য, সংগীত ও স্বরচিত কবিতা পাঠের মধ্য দিয়ে শারদীয় আবহে মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র প্রাঙ্গণ।

অনুষ্ঠানের সূচনায় উন্মোচকসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করেন বৈশালী চক্রবর্তী চট্টোপাধ্যায় ও শতাক্ষী বিশ্বাস। এরপর সুশান্ত মোহন চট্টোপাধ্যায়ের রচনা এবং দীপশঙ্কর পালের সুরারোপে সুদর্শন মিউজিক অ্যাকাডেমির শিল্পীদের পরিবেশিত ‘সাঁকো’ সংগীতের সঙ্গে প্রদীপ প্রজ্বলন করে অনুষ্ঠানের শুভারম্ভ করেন হাইলাকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক ড. মিলন দাস, পুরপতি মানব চক্রবর্তী, বিশিষ্ট কবি ও চিত্রনাট্যকার আশুতোষ দাস, বরিষ্ঠ নাগরিক সংস্থার সভাপতি ডা. নারায়ণ দেবনাথ এবং জেলা বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি স্বপন ভট্টাচার্য।

স্বাগত বক্তব্যে ‘সাঁকো’র প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সুশান্ত মোহন চট্টোপাধ্যায় বলেন, দুর্গাপূজার সঙ্গে সাহিত্য ও সংস্কৃতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। হাইলাকান্দির মতো জায়গায় ধারাবাহিকভাবে পূজাসংখ্যা প্রকাশ করা নিঃসন্দেহে এক কঠিন কাজ। তা সত্ত্বেও লেখক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত ‘সাঁকো’ সাহিত্য পত্রিকা গত ২২ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে মহালয়ার দিন প্রকাশিত হয়ে আসছে। এই সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি উৎসর্গ করেন।

এরপর বিশিষ্ট নৃত্যশিক্ষিকা শতাক্ষী বিশ্বাস উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করেন এবং রশ্মিকা শর্মা আদ্যাস্তোত্র পাঠ করেন। অনুষ্ঠানের মূল পর্বে বিধায়ক ড. মিলন দাস অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে ‘সাঁকো’ সাহিত্য পত্রিকার ২২তম বর্ষের পূজাসংখ্যার আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করেন।

একই অনুষ্ঠানে প্রকাশিত হয় দুটি কাব্যগ্রন্থ। ‘সাঁকো’ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত কবি সুদীপ্তা বিশ্বাসের ছড়াকাব্য ‘ছড়ায় ছন্দে’-এর মোড়ক উন্মোচন করেন পৌরপতি মানব চক্রবর্তী। অন্যদিকে, আগরতলার বজ্রকণ্ঠ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত, আইএসবিএন-যুক্ত কবি সুশান্ত মোহন চট্টোপাধ্যায়ের কাব্যগ্রন্থ ‘দিনান্তে গোধূলী’-এর আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করেন বিশিষ্ট কবি আশুতোষ দাস।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল এ বছরের ‘সাঁকো সম্মাননা ১৪৩৩’ প্রদান। এ বছর এই সম্মাননায় ভূষিত হন হাইলাকান্দির বিধায়ক ড. মিলন দাস। প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক সুশান্ত মোহন চট্টোপাধ্যায় সম্মাননা প্রদানের প্রেক্ষাপট ও ইতিহাস তুলে ধরে সম্মাননাপত্র পাঠ করেন। এরপর প্রকাশিকা বেবী চট্টোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে বিধায়কের হাতে স্মারক সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, এর আগে এই সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, কবি-সম্পাদক বিজিৎকুমার ভট্টাচার্য, ঔপন্যাসিক রণবীর পুরকায়স্থ, গল্পকার মিথিলেশ ভট্টাচার্য, চিত্রশিল্পী নীহারেন্দু চৌধুরী এবং প্রাক্তন জেলাশাসক সমশের সিং ও কীর্তি জল্লি-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।

সম্মাননা গ্রহণ করে বিধায়ক ড. মিলন দাস বলেন, এই ভালোবাসা ও সম্মান তাঁকে আগামী দিনে সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করার প্রেরণা জোগাবে। সাহিত্যের প্রয়োজনে তিনি যথাসাধ্য সহযোগিতা করার চেষ্টা করবেন বলেও আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পৌরপতি মানব চক্রবর্তী, ডা. নারায়ণ দেবনাথ, আশুতোষ দাস, সুদীপ্তা বিশ্বাস, সুদর্শন ভট্টাচার্য, স্বপন ভট্টাচার্য, অরুণ দাস, রবীন্দ্রনাথ কাশ্যপ, জগদীশ চক্রবর্তী, তিলক রঞ্জন দাস, অঞ্জন ভট্টাচার্য, কবিতা দাস, মাধবী শর্মা এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক ড. শতানন্দ ভট্টাচার্য প্রমুখ।

এরপর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। সুশান্ত মোহন চট্টোপাধ্যায়ের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে একক নৃত্য পরিবেশন করেন গুঞ্জন ধর, বেদত্রয়ী গোস্বামী, নয়না চৌধুরী ও সমাদৃতা চক্রবর্তী। একক সংগীত পরিবেশন করেন মালা শর্মা ভট্টাচার্য ও অঞ্জন ভট্টাচার্য।

স্বরচিত কবিতা পাঠে অংশ নেন অনামিকা শর্মা, শঙ্করী চক্রবর্তী, রবীন্দ্রনাথ কাশ্যপ, কবিতা দাস, মাধবী শর্মা, সুদীপ্তা বিশ্বাস, মানিক চক্রবর্তী ও রঞ্জিত চক্রবর্তী-সহ অন্যান্য কবি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণ চন্দ্র দাস, রঞ্জিৎ ঘোষ, মিঠুলাল চৌধুরী, জসিম উদ্দিন লস্কর, আব্দুল মালিক বড়ভূইয়া, ভক্ত সিং, স্বস্তিকা চক্রবর্তী, কাকলী চক্রবর্তী, হিমাদ্রী শেখর দেবনাথ, হর্ষ দেবনাথ, অসীম দেবনাথ, ফখরুল ইসলাম লস্কর, সৌরজিৎ ধর, হরিপদ চক্রবর্তী এবং পৌরসদস্যা উমা চৌধুরী-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। সবশেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *