মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১০ অক্টোবর: মহালয়ার পুণ্যতিথিতে শারদীয় দুর্গোৎসবের আগমনী আবহে পাথারকান্দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হল দ্বিভাষিক ভক্তিগীতি ‘জয় দুর্গা মা’। বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী বেবী সিনহার কণ্ঠে পরিবেশিত এই গানটি বাংলা ও বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি দুই ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে। পাথারকান্দির শ্রীশ্রী ভুবনেশ্বর সাধুঠাকুর আশ্রমে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে গানটির শুভ উন্মোচন করা হয়। এই উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় শিল্পী, ভক্ত ও সঙ্গীতপ্রেমীদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়।
মহালয়ার পবিত্র দিনে দেবী দুর্গার বন্দনায় নতুন এই সঙ্গীত নিবেদন শারদীয় উৎসবের আবহে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। গানটির মূল ভাবনায় রয়েছে দেবীর প্রতি ভক্তি, শ্রদ্ধা ও আত্মনিবেদনের অনুভূতি। বাংলা ও বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি দুই ভাষায় গানটি প্রকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের কাছে দেবীবন্দনার সুর পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গানটির সুরকার ও আলেখ্য রচয়িতা রাজীব সিনহা। নির্মাণ ও পরিবেশনার কাজে সহযোগিতা করেছেন স্বরাজ সিনহা, সুমিত সিনহা এবং দীপঙ্কর সিনহা। সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভক্তিগীতিটিকে শ্রোতাদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। গানটির প্রকাশ প্রসঙ্গে শিল্পী বেবী সিনহা জানান, দুর্গাপূজার দিনগুলিতে এবং বিজয়া দশমীর সময় মানুষের মধ্যে দেবী দুর্গার আরাধনার আধ্যাত্মিক আবহ ছড়িয়ে দেওয়াই এই দ্বিভাষিক সঙ্গীত নিবেদনের অন্যতম উদ্দেশ্য। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি শ্রোতাদের মনে ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ইতিবাচক অনুভূতি জাগিয়ে তুলতে তাঁরা এই উদ্যোগ নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, দুর্গাপূজা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও প্রতীক। সেই আবহে আঞ্চলিক ভাষাকে গুরুত্ব দিয়ে ‘জয় দুর্গা মা’ প্রকাশ স্থানীয় সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি বাংলা ও বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরী ভাষার মেলবন্ধনের একটি উল্লেখযোগ্য প্রয়াস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মহালয়ার দিনে এই নতুন ভক্তিগীতির আত্মপ্রকাশ শারদীয় উৎসবে ভক্তি ও সঙ্গীতের এক নতুন সংযোজন ঘটাল।



