৯ অক্টোবর : ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বৃহৎ বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে প্রায় ২২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই বাহিনীতে প্রায় ২৩ হাজার সদস্য রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৫ হাজার দিল্লি পুলিশের কর্মীকেও নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে।
জম্মু ও কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ এবং ছত্তিশগড়সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী আনা হয়েছে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে এত বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তুতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৯ ও ১০ অক্টোবর দিল্লির সমস্ত মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন বলে জানা গেছে।
বিক্ষোভের সম্ভাবনা মাথায় রেখে নজরদারি ও নিরাপত্তা তৎপরতা বাড়িয়েছে পুলিশ। গত জুলাই মাসে নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হওয়া প্রতিবাদে অংশ নেওয়া প্রায় ২৮০০ জনকে ফেসিয়াল রেকগনিশন প্রযুক্তির সাহায্যে চিহ্নিত করে তাঁদের গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে সূত্রের দাবি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং পেয়িং গেস্ট আবাসনের মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। বাস বুকিং এবং সম্ভাব্য যাতায়াতের পথেও নজরদারি চালানো হচ্ছে।
দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভের অনুমতি না দিলেও কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে আসতে নারাজ সিজেপি। সংগঠনের কো-কনভেনর সৌরভ দাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, নাগরিকেরা কোনও প্রতিবাদে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে পুলিশ কীভাবে আবেদন জানাতে পারে? তিনি দাবি করেছেন, আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখাবেন। প্রয়োজনে দিল্লির সর্বত্র প্রতিবাদের কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, আম আদমি পার্টির (আপ) নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ অভিযোগ করেছেন, দলের কয়েকজন ছাত্র ও স্বেচ্ছাসেবককে গ্রেপ্তার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আপ বিধায়ক কুলদীপ কুমারের বাড়িতেও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
এদিকে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে আটক ব্যক্তিদের রাখার জন্য কয়েকটি স্টেডিয়ামকে অস্থায়ী আটককেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে। নিরাপত্তা অভিযানে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুলিশকর্মীদের শরীরে প্রায় ১৫০টি বডি-ওর্ন ক্যামেরা লাগানোর ব্যবস্থাও করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, এসআইআর ইস্যুতে প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে ঘিরে দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা তৎপরতা তুঙ্গে।



