৬৮ বছরের ঐতিহ্যে বালিপিপলা সর্বজনীন দুর্গাপূজার জোরদার প্রস্তুতি

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ৭ অক্টোবর : ৬৮ বছরের ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে অসম-মিজোরাম-ত্রিপুরা সীমান্তঘেঁষা বালিপিপলায় এবারও দুর্গাপূজার প্রস্তুতি তুঙ্গে। ১৯৫৮ সালে স্থানীয় কয়েকজনের উদ্যোগে অতি সংক্ষিপ্ত পরিসরে শুরু হওয়া এই পূজা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আজ এলাকার সামাজিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে। পাথারকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের সীমান্তবর্তী বালিপিপলা ও সংলগ্ন এলাকায় বাঙালি, উপজাতি ও বিষ্ণুপ্রিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই জাতি-সম্প্রদায়ের বিভেদ ভুলে সকলে একসঙ্গে উৎসবে শামিল হন। ফলে এই সর্বজনীন পূজা ধর্মীয় অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পরিণত হয়েছে বৃহত্তর সামাজিক মিলনমেলায়।

এবারও পূজামণ্ডপ ঘিরে ব্যস্ততা বেড়েছে। এলাকার যুবকেরা মণ্ডপ প্রস্তুতি, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং পূজার বিভিন্ন আয়োজন নিয়ে দিনরাত কাজ করছেন। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন প্রবীণরাও। অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ দিয়ে তাঁরা তরুণদের সহযোগিতা করছেন। বালিপিপলা জিপির সভানেত্রীর প্রতিনিধি শ্রীমৎ দাস জানান, মূলত এলাকার যুবকেরাই পূজার প্রস্তুতির দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিয়েছেন। প্রবীণদের সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনাও মিলছে নিয়মিত।

কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গেও পূজার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। সারা বছর কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকার পর শরৎকালে উৎসবের প্রস্তুতিতে গ্রামের মানুষ একত্রিত হন। ফলে দুর্গাপূজা হয়ে ওঠে গোটা এলাকার মানুষের মিলিত হওয়ার অন্যতম উপলক্ষ।

পূজার দিনগুলিতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় দেবীর সামনে আরতি ও কীর্তনের আয়োজন থাকবে। নিষ্ঠা ও ভক্তির সঙ্গে সম্পন্ন হবে পূজার যাবতীয় আচার-অনুষ্ঠান। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য থাকবে মহাপ্রসাদের ব্যবস্থাও। দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। পূজা উপলক্ষে স্থানীয় বাজার এলাকাতেও বসবে ঐতিহ্যবাহী মেলা। শিশু-কিশোর থেকে প্রবীণ—সকলের অংশগ্রহণে কয়েক দিনের জন্য বালিপিপলা হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত। তবে এবার জাঁকজমক বা বাহারি আলোকসজ্জার চেয়ে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেবী দুর্গার আরাধনাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন আয়োজকরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *