৮ অক্টোবর : বৃহস্পতিবার সকালে দুঃসংবাদে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলিউড ও মারাঠি চলচ্চিত্র জগতে। প্রয়াত হলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর। গোয়ার ডোনা পাওলায় নিজের বাড়িতে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে অচেতন অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকদের দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে নানা পাটেকরের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। রাত আড়াইটে নাগাদ অসুস্থ বোধ করার কথা এক বন্ধুকে মেসেজ করে জানিয়েছিলেন অভিনেতা। কিন্তু সেই সময় তাঁর বন্ধু ঘুমিয়ে থাকায় মেসেজটি দেখতে পারেননি। ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ মেসেজটি নজরে আসার পর তিনি দ্রুত ডোনা পাওলার বাড়িতে পৌঁছন। সেখানে অভিনেতাকে অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

এরপর দ্রুত মেডিক্যাল টিমকে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। বাড়ি থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত অ্যাম্বুল্যান্সে তাঁকে CPR দেওয়া হয়। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চিকিৎসকদের মরিয়া প্রচেষ্টা চললেও সাড়া মেলেনি। ভোর ৫টা ২০ মিনিটে চিকিৎসকরা নানা পাটেকরকে মৃত ঘোষণা করেন।
মণিপাল হাসপাতালের চিকিৎসক শেখর সালকর জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার কারণেই অভিনেতার মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত করা হবে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে মেডিকো-লিগ্যাল কেস (MLC) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।
চিকিৎসক শেখর সালকর জানান, “৪৫ মিনিট ধরে লাগাতার CPR দেওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।” জানা গেছে, মৃত্যুর সময় বাড়িতে পরিবারের কোনও সদস্য ছিলেন না। সেখানে তাঁর বন্ধু ও কেয়ারটেকার উপস্থিত ছিলেন।
নানা পাটেকরের আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ চলচ্চিত্র ও নাট্যজগৎ। প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ অভিনয় জীবনে ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘প্রহার’, ‘অগ্নিসাক্ষী’, ‘খামোশি’ এবং ‘ওয়েলকাম’-সহ একাধিক জনপ্রিয় ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। সিনেমার পাশাপাশি মঞ্চেও তাঁর ছিল উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি। অভিনয়জগতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হন তিনি।



