
৬ অক্টোবর : নাইজেরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ওন্দো প্রদেশে সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ২৫ জন যাত্রী এবং সাতজন ক্রু সদস্য রয়েছেন। সোমবার রাতে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু। সোমবার সকালে বেনিন সিটি থেকে লাগোসের উদ্দেশে নিয়মিত মিশনে রওনা হয়েছিল নাইজেরিয়ান এয়ারফোর্সের এটিআর-৪২ বিমানটি। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১৩ মিনিটের দিকে বিমানটির সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রেডিওর মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ওন্দো প্রদেশের ইগবোকোডা এলাকায় একটি নৌঘাঁটির কাছে জলাভূমিতে বিমানটির ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া যায়। নাইজেরিয়ার বিমানবিষয়ক মন্ত্রী ফেসটাস কেয়ামো জানান, বিমানটি নিয়মিত মিশনে লাগোসের দিকে যাচ্ছিল। মাঝপথে সেটির রাডার সংকেত হারিয়ে যায়। পরে নাইজেরিয়ান বিমানবাহিনী দুর্ঘটনাগ্রস্ত বিমানটি তাদেরই এটিআর-৪২ বলে নিশ্চিত করে।
দুর্ঘটনার পরপরই বিমানবাহিনী, জরুরি পরিষেবা সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। জলাভূমি এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটায় উদ্ধারকারীরা নৌকায় করে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে বিমানটির ধ্বংসাবশেষসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিমানটি নিচে নামার সময় কয়েকটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। পরে দুর্ঘটনাস্থল থেকে দেহাবশেষ, পোশাক ও জুতা উদ্ধার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতেও উদ্ধারকারী দলকে নৌকায় করে ঘটনাস্থলে তৎপরতা চালাতে দেখা গেছে।
এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নাইজেরিয়ান বিমানবাহিনীকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। নিহত বিমানবাহিনীর সদস্যদের সম্মানে দেশজুড়ে তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিহতদের পরিচয় তাঁদের পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার পর প্রকাশ করা হবে বলে প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে।



