বরাক তরঙ্গ, ৫ অক্টোবর : রসায়নের ব্যবহার যে শুধু পাঠ্যবই কিংবা পরীক্ষাগারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দৈনন্দিন জীবন, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গে এর নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে—এই বার্তা সামনে রেখে শিলচরে অনুষ্ঠিত হল বিশেষ বক্তৃতা অনুষ্ঠান। গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র ও প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবন পরিষদের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে সোমবার পি এম শ্রী নরসিং উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘পাঠ্যপুস্তকের বাইরে রসায়ন—দৈনন্দিন জীবনে রসায়নের প্রয়োগ ও উদ্যোক্তা হওয়ার সম্ভাবনা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুরুচরণ বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রের অধিকর্তা এবং প্রতিষ্ঠান উদ্ভাবন পরিষদের সমন্বয়ক ড. সুভাষ দেবনাথ। তিনি সহজ ও আকর্ষণীয় উদাহরণের মাধ্যমে দৈনন্দিন জীবনে রসায়নের নানা প্রয়োগ তুলে ধরেন।
ড. দেবনাথ জানান, সাবান কীভাবে তেল পরিষ্কার করে, কাটা আপেল বাদামি হয়ে যায় কেন, পেঁয়াজ কাটলে চোখে জল আসে কেন, চায়ের রাসায়নিক উপাদান এবং আতশবাজিতে বিভিন্ন রং তৈরির পেছনে কী ধরনের রাসায়নিক প্রক্রিয়া কাজ করে—এসব বিষয় রসায়নের সঙ্গে সাধারণ মানুষের জীবনের সরাসরি সম্পর্কের উদাহরণ।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাক্ষেত্রে রসায়নের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ওষুধ প্রস্তুত, রোগ নির্ণয়, জীবাণুনাশক ও জীবাণু প্রতিরোধী সামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি শিলচরে পনিরে ভেজাল শনাক্তকরণের একটি বাস্তব উদাহরণও উপস্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে খাদ্যসামগ্রীর গুণমান নির্ণয়ে রাসায়নিক বিশ্লেষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে রসায়নকে ‘কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান’ হিসেবে উল্লেখ করে জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষি, প্রকৌশল, পরিবেশবিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সঙ্গে এর আন্তঃসম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হয়। পাশাপাশি খাদ্যবিজ্ঞানী, জীবরসায়নবিদ, ফরেনসিক বিশ্লেষক, পরিবেশ রসায়নবিদ, বিশ্লেষণাত্মক রসায়নবিদ, ঔষধ রসায়নবিদ ও রাসায়নিক প্রকৌশলী হিসেবে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়।
রসায়নভিত্তিক উদ্যোক্তা হওয়ার বিভিন্ন সম্ভাবনাও অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব পায়। হ্যান্ডওয়াশ, বাসন ও মেঝে পরিষ্কারক, শৌচাগার পরিষ্কারক, খাদ্যে ভেজাল পরীক্ষার পরিষেবা, দুধ-পনিরের গুণমান পরীক্ষা এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ স্বাস্থ্যবিধি-সংক্রান্ত পণ্য তৈরির মতো ছোট উদ্যোগের ধারণা তুলে ধরা হয়।
এছাড়া কাছাড় জেলার গ্রাম ও চা-বাগান এলাকায় সহজলভ্য লেমনগ্রাস বা লেবুঘাসকে স্থানীয় সম্পদ হিসেবে কাজে লাগিয়ে চা-সহ বিভিন্ন মূল্য সংযোজিত পণ্য তৈরির মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন ড. দেবনাথ। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে রসায়নকে শুধুমাত্র একটি পাঠ্য বিষয় হিসেবে নয়, বরং দৈনন্দিন জীবন, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, পরিবেশ, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং স্বনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরির একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে দেখার বার্তা দেওয়া হয়।



