শারদা সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের রজতজয়ন্তীর প্রথম পর্বের সমাপ্তি

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৫ অক্টোবর : নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের মুকুন্দদাস-কালিকাপ্রসাদ স্মৃতিমঞ্চে শারদা সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের রজতজয়ন্তী বর্ষের প্রথম পর্বের সমাপ্তি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ২৫ বছরের পথচলা স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের সমবেত চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে। পরে বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতিতে মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শারদা সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের সভানেত্রী তথা বিশিষ্ট লেখিকা জয়া দেব, প্রাক্তন অধ্যাপিকা সুমিতা ঘোষ দেব, অধ্যক্ষা অনিন্দিতা ধর, নৃত্যশিল্পী দেবতোষ নাথ, সংগীতশিল্পী গৌতম সিনহা, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. বিভাস দেব এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক ও বিশিষ্ট তবলাবাদক ভাস্কর দাস। এরপর অধ্যক্ষা অনিন্দিতা ধর অতিথিদের উত্তরীয় ও পুষ্পস্তবক দিয়ে সংবর্ধনা জানান। স্বাগত বক্তব্যে তিনি শারদা সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের দীর্ঘ ২৫ বছরের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

এদিন গুণীজন ও বিশিষ্ট শিল্পীদেরও সম্মানিত করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষিকা কমলা দেবী, সত্য সাই সেবা সমিতির রাজ্য সহ-সভাপতি রূপনারায়ণ দাস, রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী, নজরুলগীতিশিল্পী তাপস শংকর দেব, নজরুল মঞ্চের সভাপতি পার্থ সারথী চক্রবর্তী এবং নৃত্যশিল্পী দেবাশিস চন্দ।

বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী বলেন, শারদা সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের সঙ্গে তাঁদের দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। তাঁর মতে, এই প্রতিষ্ঠান শুধু সংগীত শিক্ষা দেয় না, বরং বহু প্রতিভাবান শিল্পী ও সংগীতপ্রেমী তৈরি করেছে। ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানটি আরও বৃহত্তর পরিসরে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রূপনারায়ণ দাস বলেন, সংগীত কেবল গান নয়, এটি সাধনা, অনুশীলন ও আত্মপ্রকাশের মাধ্যম। আগামী প্রজন্মের মধ্যে সংগীতের প্রতি ভালোবাসা ও চর্চার আগ্রহ বাড়াতে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সাংস্কৃতিক পর্বে একক রবীন্দ্রনৃত্য পরিবেশন করেন অন্বেষা দে। আবৃত্তি পরিবেশন করে শিশুশিল্পী প্রিয়দত্তা পুরকায়স্থ। একক রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন পিয়ালী দাস এবং একক নজরুলগীতি পরিবেশন করেন দিপাকা হাজাম। তবলায় সত্যজিৎ শীল এবং কীবোর্ডে সন্দীপ ভট্টাচার্য সঙ্গত করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সঞ্চালনা করেন বিপ্লব বিশ্বাস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *