শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ৫ অক্টোবর : কাছাড় জেলার পশ্চিম কাটিগড়ার জালালপুর, কুশিয়ারকুল বাজার সহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ চুলাই মদ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ উঠছিল। মদের সহজলভ্যতায় এলাকার পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা, বিশেষ করে মহিলারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জালালপুর, কুশিয়ারকুল সহ একাধিক এলাকায় প্রকাশ্যেই চুলাই মদ তৈরি ও বিক্রি চলছিল। এর ফলে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ঝামেলা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। পাশাপাশি এই অবৈধ মদের কারবারের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে উঠতি বয়সের যুবসমাজের উপরও।
অবৈধ মদের কারবার বন্ধে প্রশাসন ও আবগারি বিভাগকে একাধিকবার জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিধায়কের দ্বারস্থ হন তাঁরা এবং দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান।
এরপরই অবৈধ চুলাই মদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় গুমড়া পুলিশ। জালালপুর, কুশিয়ারকুল সহ বিভিন্ন এলাকায় মদ তৈরির ঘাটিতে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। পুলিশি অভিযানের খবর পেয়ে কারবারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
পরে অভিযান চালিয়ে ওইসব ঘাটি থেকে কয়েক হাজার লিটার তৈরি চুলাই মদ ধ্বংস করা হয়। পাশাপাশি মদ তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ওঠার পরও কেন পুলিশ আগে থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অবৈধ মদের কারবার বন্ধে আবগারি বিভাগের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের দাবি, শুধুমাত্র অভিযান চালিয়ে মদ ধ্বংস করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। এর সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে ফের এই অবৈধ কারবার গড়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কঠোর ও ধারাবাহিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
পশ্চিম কাটিগড়ায় অবৈধ চুলাই মদের বিরুদ্ধে পুলিশের এই অভিযান কতটা স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।


