
বরাক তরঙ্গ, ৪ অক্টোবর : মণিপুরের কাংপোকপি জেলায় নিখোঁজ ৭১ বছর বয়সি কুকি কৃষক হেমজাং হাওকিপের মৃতদেহ রবিবার উদ্ধার হয়েছে। হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লেইমাখং আর্মি হেডকোয়ার্টার্সের কাছে খুনখো কুকি গ্রামের বাসিন্দা হেমজাং হাওকিপ গত ৩ অক্টোবর তাঁর খামারবাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। খুনখো কুকি ভিলেজ অথরিটির অভিযোগ, সশস্ত্র NSCN-IM সদস্যরা তাঁকে খামারবাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে ওই কুঁড়েঘরে আগুন দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ সম্ভব হয়নি।
নিখোঁজের পর পুলিশ, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের যৌথভাবে তল্লাশি শুরু হয়। রবিবার সকালে তাঁর পোশাক উদ্ধারের পর স্নিফার ডগের সাহায্যে তল্লাশি চালানো হয়। দুপুর প্রায় আড়াইটার দিকে এস. গোলাই এলাকায় তাঁর মৃতদেহের সন্ধান মেলে। প্রাথমিকভাবে দেহে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও সরকারি ভাবে জানানো হয়নি। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
ঘটনার প্রতিবাদে খুনখো কুকি ভিলেজ অথরিটি নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। এর আগে হাওকিপের নিরাপদ মুক্তির দাবিতে লেইমাখং বাজারে কুকি-জো মহিলারাও অবস্থান বিক্ষোভ করেছিলেন।

এদিকে, মৃতদেহ উদ্ধারের পর কুকি-জো কাউন্সিলের (KZC) পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিবার ও সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দেহ গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। মৃতদেহটি মর্গে রাখা হতে পারে বলে সূত্রের খবর। KZC-এর দাবি, চূড়াচাঁদপুর জেলা হাসপাতালের মর্গে আগে থেকেই আটটি দাবিদারহীন কুকি-জো মৃতদেহ রয়েছে। হাওকিপের দেহ উদ্ধারের পর সেই সংখ্যা বেড়ে নয় হয়েছে বলে সংগঠনটির দাবি। এ ঘটনায় মণিপুরের সংঘাতপ্রবণ এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ফের উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।



