যোগ প্রক্রিয়ার নিয়মিত অভ্যাস নিয়ে সচেতন হোন, বার্তা স্বপন দাসের

Spread the news

কাতিরাইল যোগব্যায়াম সেন্টারের ৩৮তম প্রতিষ্ঠা দিবসে ‘যোগ গুরু রাধেশ স্মৃতিস্মারক’ ফাউন্ডেশনের

বরাক তরঙ্গ, ৩ অক্টোবর :  নিয়মিত যোগ প্রক্রিয়ার চর্চা নিয়ে সচেতন হোন। কারণ, ওষুধ নির্ভর হয়ে শরীর ও মনকে স্বতস্ফূর্ত রাখা সম্ভব নয়। দুশ্চিন্তা ও চাপ মুক্ত জীবনের স্বাদ পেতে হলে যোগ অনুশীলনের বিকল্প নেই।  কাটিগড়ার বদরপুর ঘাটে একটি অনুষ্ঠানে এমন বার্তাই দিলেন প্রবীণ চিকিৎসক স্বপন কুমার দাস। কাতিরাইল যোগ ব্যায়াম সেন্টার-এর ৩৮তম প্রতিষ্ঠা দিবসে বক্তব্য রাখছিলেন তিনি। বলেন, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির গুরুত্ব বা গ্রহযোগ্যতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই এখানে। যোগ এর সঙ্গে কোনও তুলনারও জায়গা নেই। কারণ, যোগ অভ্যাস সম্পূর্ণ পরিপূরক প্রক্রিয়া। উপযুক্ত প্রশিক্ষকের মাধ্যমে এই শিক্ষাকে আয়ত্ত করতে পারলে শারীরিক ও মানসিক স্বস্তি থাকবেই। অভিভাবকদের  ছেলেমেয়ের জন্য এই বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান ডাঃ স্বপ্ননকুমার দাস।

শুক্রবার রায় ভিলার মিলনায়তনে আয়োজিত হয়  যোগ ব্যায়াম সেন্টারের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে। পতাকা উত্তোলন ও প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে উদ্বোধন হয়। তারপর  ইনস্টিটিউশনের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত যোগ গুরু রাধেশ চন্দ্র চক্রবর্তীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন উপস্থিত যোগ প্রেমীরা। পরে একে একে আমন্ত্রিত অতিথি ডাঃ স্বপন কুমার দাস, সিতাংশু রায়, সুভাষরঞ্জন চক্রবর্তী, অরুণ কর্মকার ও  মনসুর আহমদকে সংস্থার তরফে বরণ করেন অলোকা কর্মকার ও পিউ কর্মকার।  স্বাগত ভাষণ দেন কাতিরাইল যোগব্যায়াম সেন্টার ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর  যোগাচার্য রাহুল। ওইদিন প্রথমবারের মতো “যোগ গুরু রাধেশ স্মৃতি স্মারক” প্রদান করা হয়। সক্রিয়ভাবে যোগ ক্ষেত্রে বিচরণ না থাকা সত্ত্বেও যাঁরা যোগ শিক্ষাকে  ছড়িয়ে দিয়েছেন। কাজ করেছেন কাতিরাইল যোগব্যায়াম সেন্টারের উন্নয়নে। এমন ছয় ব্যক্তিত্বকে স্মৃতি স্মরণ দেওয়া হয়। এঁদের মধ্যে ছিলেন  বিশিষ্ট শিক্ষক তথা সমাজ কর্মী ধরণীমোহন দেব, বিশিষ্ট চিকিৎসক স্বপনকুমার দাস, দুই বিশিষ্ট সমাজকর্মী সিতাংশু রায় ও অরুণ কর্মকার সহ আইনজীবী বুদ্ধ প্রতিম দেব। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বদরপুর আল হিরা ন্যাশনাল সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুল’কে এই সম্মান দেওয়া হয়। এই স্মারক সহ সম্মাননা সামগ্রী তুলে দেন ফাউন্ডেশনের যোগ সায়েন্স বিভাগের সিইও শতাক্ষী ভট্টাচার্য। তাছাড়া, যোগ গুরু রাধেশের শেষ ছাত্র হিসেবে  হিমাঘ্ন ভট্টাচার্যের হাতে উপহার তুলে দেন বিশিষ্টজনেরা। অনুষ্ঠানে প্রত্যেক অতিথিই অনুভূতি প্রকাশ করেন। সিতাংশু রায় যোগ গুরু রাধেশ চক্রবর্তীর যোগ বিষয়ে নিবেদিত  মন-প্রাণ’কে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সেন্টারর উন্নয়নে সহায়তার আশ্বাস দেন।

অরুণ কর্মকারও যোগ গুরু রাধেশের সঙ্গে মিলে নানা কর্মসূচি আয়োজনের স্মৃতি মন্থন করেন। যোগ শিক্ষাকে ছড়িয়ে দিতে যোগগুরুর অবদানের কথা স্মরণ করেন তিনি। আল হিরা স্কুলের সহকারী সম্পাদক মনসুর আহমদও  বক্তব্য রাখেন।  কীভাবে  প্রয়াত রাধেশ চক্রবর্তীর পরামর্শ নিয়ে কাতিরাইল যোগ ব্যায়াম সেন্টারের হাত ধরে কুলে যোগ প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল, সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেন। আজকের দিনেও  আল হিরায় যোগ প্রশিক্ষণ চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অনুভূতি প্রকাশ করেন সুভাষ রঞ্জন চক্রবর্তীও।

শেষ পর্বে আসন প্রদর্শন করেন প্রশিক্ষক রাতুল চক্রবর্তী। আল হিরা স্কুলের প্রতিনিধি সহ সিতাংশু রায় ও সুভাষ চক্রবর্তীর হাতে আয়োজক সংস্থার পক্ষে গাছের চারা তুলে দেন ড. তুহিন দেশমুখ্য।

প্রতিষ্ঠা দিবসের আয়োজনের মধ্য দিয়ে বছরব্যাপী কর্মসূচি সহ সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রয়াত সুধেন্দু রঞ্জন রায়ের স্মৃতিতে “স্বাধীনতা সংগ্রামী সুধেন্দুরঞ্জন রায় স্মৃতি পুরস্কার” ঘোষণা করা হয় কাতিরাইল যোগ ব্যায়াম ফাউন্ডেশনের তরফে।  শিলা চৌধুরী, এস মনিহার সিনহা, শিখা পুরকায়স্থ, সুবিমল বর্ধন, লিটন মহম্মদ জাহাঙ্গির, সিফাতুল ইসলাম, নাজিম উদ্দিন সহ অন্যরা অংশ নেন  ওইদিনের অনুষ্ঠানে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *