পাথারকান্দির চান্দখিরাবস্তিতে খুন হওয়া আব্দুল কাদির ধলাই কর্কটবস্তির বাসিন্দা, ঘটনার আরও কেউ জড়িত বলে দাবি পরিবারের

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১ অক্টোবর : পাথারকান্দির চান্দখিরাবস্তির ভাড়া ঘরে খুন হওয়া আব্দুল কাদির লস্কর ধলাইয়ের কর্কটের বাসিন্দা। বৃহস্পতিবার তার পরিবারের লোকরা সাংবাদিক ডেকে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন বলে দাবি করেন। আব্দুল কাদিরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত দেখে তাঁর দুই ভাই ও কিশোরী সন্তানের এমনটাই দাবি। আব্দুল কাদির মূলত একজন কবিরাজি ওষুধ বিক্রেতা ছিলেন। মাস তিনেক ধরে তিনি পাথারকান্দির চান্দখিরাবস্তিতে রাসনা বেগমকে নিয়ে ভাড়াটে হিসেবে বসবাস করছিলেন। তাঁর দুই ভাই জানান গ্রামের প্রাক্তন গ্রুপ সদস্যের মারফতে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা জানতে পারেন। পরবর্তীতে তারা পাথাকান্দিতে পৌঁছেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মৃতদহ নিয়ে শিলচরে পৌঁছান এবং শিলচর মেডিক্যাল কলেজে ময়নাতদন্তের পর কর্কট বস্তিতে আব্দুল কাদিরের নিথর দেহ নিয়ে আসেন। 

পারিবারিক সূত্রে আরও জানা যায়, প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর ত্রিপুরার ধর্মনগর এলাকার এক মহিলাকে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিলেন আব্দুল কাদির। প্রথম পক্ষের স্ত্রী থেকে তাঁর একটি ১৪ বছরের কন্যাসন্তান রয়েছে। বাবার আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে কিশোরীটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। নিহতের ১৪ বছরের কন্যারও একই দাবি বাবার হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

উল্লেখ্য, পাথারকান্দির দেওলাখাল এলাকার কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়ের পাশে চান্দখিরা বস্তির একটি ভাড়াবাড়ি থেকে গত সোমবার ভোরে রক্তাক্ত অবস্থায় আব্দুল কাদির লস্করের দেহ উদ্ধারের পর থেকেই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রথম থেকেই ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে তৈরি হয় নানা প্রশ্ন। জানা যায়, প্রায় দু’মাস আগে ট্রেনযাত্রার সময় উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগরের পশ্চিম সাঁকাইবাড়ির বাসিন্দা রাসনা বেগমের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরবর্তীতে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং তাঁরা দেওলাখালে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিলেন। আইনিভাবে বিয়ে না হলেও স্থানীয়দের কাছে তাঁরা স্বামী-স্ত্রীর মতোই বসবাস করতেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার দিন ভোররাতে রাসনা বেগম ভাড়াবাড়িতে তালা লাগিয়ে নিজের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন বলে অভিযোগ। কিন্তু বাড়ির বাইরের মূল ফটকেও তালা থাকায় তিনি সেখান থেকে বের হতে পারেননি। তাঁর আচরণে সন্দেহ হয় স্থানীয়দের। কাদিরের বিষয়ে জানতে চাইলে রাসনা জানান, কাদির বিশেষ কাজে রাতেই বাড়ি চলে গিয়েছেন। তবে তাঁর বক্তব্যে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন প্রতিবেশীরা।

সন্দেহ হওয়ায় কয়েকজন জানালা দিয়ে ঘরের ভিতরে তাকালে বিছানায় কাপড়ে ঢাকা অবস্থায় কাদিরের রক্তাক্ত দেহ দেখতে পান। এরপর বাড়ির মালিক নাজিম উদ্দিনকে খবর দেওয়া হয় এবং পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে পাথারকান্দির সহকারী কমিশনার সীমান্ত বিশ্বাস ও তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ছুরি ও দু’টি লাঠি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বুধবার ধৃত রাসনা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে ক্রাইম সিন রিকনস্ট্রাকশন করে পাথারকান্দি থানার পুলিশ। স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে চান্দখিরা বস্তির সেই ভাড়াবাড়িতে গিয়ে ঘটনার রাতের সম্ভাব্য গতিবিধি ও ঘটনাক্রম পুনর্নির্মাণ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *