শমীন্দ্র পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ২৭ সেপ্টেম্বর : রাষ্ট্রগীত বন্দে মাতরম্ রচনার ১৫০ বছর পূর্তিতে বিদ্যা ভারতীর উদ্যোগে সমগ্র ভারত ব্যাপিয়া এক কোটি কন্ঠে সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম্ গায়নের আয়োজন করা হয়। এরই সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শুক্রবার বিহাড়া সরস্বতী বিদ্যা নিকেতনের ব্যবস্থাপনায় বিহাড়া বাজার শেডে আয়োজিত হয় সমবেত বন্দেমাতরম্ গায়নের অনুষ্ঠান। এদিন এক হাজারেরও অধিক লোক সকাল এগারোটায় সম্পূর্ণ বন্দেমাতরম্ গায়নের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সবার উপস্থিতিতে এদিন দেশপ্রেম, জাতীয় চেতনা ও মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধার আবেগে মুখরিত হয়ে ওঠে সমগ্র অনুষ্ঠান প্রাঙ্গণ। অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ দক্ষিণ আসাম প্রান্তের শারীরিক শিক্ষণ প্রমুখ নির্মলেন্দু দেব। তাঁর অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যে ‘বন্দে মাতরম্’-এর অন্তর্নিহিত দেশপ্রেম ও জাতীয় চেতনার তাৎপর্য আরও গভীরভাবে ফুটে ওঠে।
এদিন সকাল নয়টায় প্রদীপ প্রজ্বলন করে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ সহ উপস্থিত অতিথিরা। অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিএমশ্রী যুধিষ্ঠির সাহা উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাকলি দেব, বিক্রমপুর কালাবাড়ি জেলা পরিষদ সদস্যা পম্পিরানি দাস, কালাইন সত্যরঞ্জন কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিজিৎ গোস্বামী, বিহাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রাজু দেব। অনুষ্ঠানের পৌরহিত্য করেন বন্দেমাতরম্ সার্ধ শতবর্ষ উদযাপন সমিতির সভাপতি কুলমনি মিশ্র। অনুষ্ঠানের শুরুতে পরিবেশিত হয় সরস্বতী বন্দনা। পরে বিদ্যালয়ের প্রধান আচার্য বনমালী শুক্লবৈদ্য তাঁর স্বাগত বক্তব্যে অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন।

বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ বন্দেমাতরম গানের গুরুত্বের কথা আলোচনা করেন। তিনি তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করে বলেন, কিছু লোক এদেশে থেকে এদেশের সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করে কিন্তু বন্দেমাতরম্ গাইতে অনিচ্ছুক, দেশকে মাতৃ জ্ঞানে সম্মান করতে দ্বিধা বোধ করে। তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতাকে মজবুত করে রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। পিএমশ্রী যুধিষ্ঠির সাহা উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কাকলি দেব তার বক্তব্যে বন্দেমাতরম্ গানের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করেন। সকাল এগারো ঘটিকায় সমগ্র দেশের সাথে এক সময়ে এক সুরে বিহাড়া অঞ্চলের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক ও বিভিন্ন সংস্থা সংঘটনের প্রায় এক হাজার লোকের উপস্থিতিতে সমবেত ভাবে পরিবেশিত হয় বন্দেমাতরম্ গান।

এদিনের অনুষ্ঠানে পিএমশ্রী বিহাড়া বাজার এমভি স্কুল, বিহাড়া দেশবন্ধু বিদ্যা নিকেতন, পিএমশ্রী যুধিষ্ঠির সাহা উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাতিমারা এলপি স্কুল, তেলিছরা এলপি স্কুল, ৮১৫নং জগন্নাথ দে পাঠশালা, সাঞ্চুয়া উরাং এমই স্কুল সহ আয়োজক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করে। পরে উক্ত অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ১০, ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন স্কুলের বিদ্যার্থীদের নিয়ে আয়োজিত অংকন, কুইজ, দেশাত্মবোধক নৃত্য ও দেশাত্মবোধক গীত প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় বরাক উপত্যকার বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী তথা দ্য গ্রুপ অফ কালার্স এর সম্পাদক গৌরশংকর নাথ এর উপস্থিতিতে ছাত্র ছাত্রীরা বিষয় ভিত্তিক তাদের চিত্র কলার উপস্থাপন করে। এতে ‘ক’ বিভাগে প্রথম হয় উদয় পাল, দ্বিতীয় রেশমি দাস ও তৃতীয় হয় রোহিত দাস। ‘খ’ বিভাগে প্রথম স্থান লাভ করে বৃষ্টি সূত্রধর, দ্বিতীয় আখি সূত্রধর ও তৃতীয় স্থান লাভ করে স্বর্ণালী গোস্বামী। ‘গ’ বিভাগে প্রথম স্থান লাভ করে অস্মিতা চক্রবর্তী দ্বিতীয় দীপাঞ্জনা দাস ও তৃতীয় স্থান লাভ করে গুঞ্জন চন্দ। ‘ঘ’ বিভাগে প্রথম স্থান ঋদ্ধি চক্রবর্তী দ্বিতীয় সমাদ্রিতা দত্ত ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে মৌসুম কর্মকার। ‘ঙ’ বিভাগে প্রথম স্থান হানাজিত দত্ত, দ্বিতীয় স্থান দ্বীপ দাস ও তৃতীয় স্থান লাভ করে দীপায়ন দাস। বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী শুভ্রাংশু নাথ মজুমদার এর উপস্থিতিতে আয়োজিত দেশাত্মবোধক নৃত্য প্রতিযোগিতায় ‘ক’ বিভাগে প্রথম স্থান লাভ করে ঋজুশ্রী আচার্যী, দ্বিতীয় জানভি দাস, যুগ্মভাবে তৃতীয় স্বর্ণালী গোস্বামী ও মানভী দাস। ‘খ’ বিভাগে প্রথম স্থান পুষ্পিতা দাস, দ্বিতীয় অহমিকা সিং ও তৃতীয় স্থান লাভ করে শ্রুতি চক্রবর্তী। ‘গ’ বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করে সন্দীপ দাস, দ্বিতীয় সমাদ্রিতা দত্ত ও তৃতীয় স্থান লাভ করে আনুষ্কা দেশমূখ্য। বিদ্যা ভারতী দক্ষিণ আসাম প্রান্তের সংগীত প্রমুখ সুপ্রিয়া দাসের উপস্থিতিতে আয়োজিত দেশাত্মবোধক সংগীত প্রতিযোগিতায় ‘ক’ বিভাগে প্রথম স্থান লাভ করে রুমা পাত্র, দ্বিতীয় সুইটি দাস ও তৃতীয় হয় শ্রীজিয়া দাস। ‘খ’ বিভাগে প্রথম স্থান লাভ করে পূর্ণিমা মালাকার, দ্বিতীয় হয় শ্রুতি চক্রবর্তী ও তৃতীয় স্থান লাভ করে অপরাজিতা আচার্যী। ‘গ’ বিভাগে প্রথম স্থান প্রতিভা সিনহা, দ্বিতীয় স্নেহা দেবনাথ ও তৃতীয় স্থান লাভ করে অনুষ্কা দেশমুখ্য। এছাড়াও কুইজ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন বিভাগে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানাধিকারীদের পুরষ্কৃত করা হয়। উপস্থিত অতিথীরা ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে তাদেরকে উৎসাহিত করেন। এছাড়াও অন্যদের শংসাপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিদ্যালয়ের আচার্যা মৌসুমী দে ও আচার্য জয়দেব পাল।
বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক, প্রাক্তন ও বর্তমান বিদ্যার্থী এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি এই আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আয়োজন সমিতির সম্পাদক সুব্রত রায়, ঝর্ণা দাস, বিথীকা দাস, সংযোজিকা পাপিয়া দাস প্রমুখ।



