২৭ সেপ্টেম্বর : ইতালির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বোরকা ও নিকাব পরার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির সরকার। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি নিজ দল ‘ব্রাদার্স অব ইতালি’-র এক রাজনৈতিক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ইতালীয় সংস্কৃতি রক্ষা ও সামাজিক মেলবন্ধনের আহ্বান জানিয়ে স্কুলে ধর্মীয় পোশাকে কড়াকড়ির ঘোষণা দেন। তার সেই ঘোষণার পরপরই গত বৃহস্পতিবার রাতে বিতর্কিত নতুন ‘স্কুল ডিক্রি’ অনুমোদন দিয়েছে ইতালির মন্ত্রিসভা। ইতালির জাতীয় বার্তা সংস্থা ‘আনসা’-র প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সুনির্দিষ্ট কোনো স্বাস্থ্যগত বা নিরাপত্তা কারণ ছাড়া স্কুলের অভ্যন্তরে বোরকা, নিকাব কিংবা মুখ ঢেকে রাখার মতো যেকোনো পোশাক পরা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মুখাবৃত অবস্থায় শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের সাধারণ পাঠ্যক্রম, পাঠ্যক্রম-বহির্ভূত কার্যক্রম কিংবা স্কুল ও পরিবারের যৌথ কোনো আয়োজনেও অংশ নিতে পারবে না। আইন অমান্য করলে ২০০ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ইউরো (প্রায় ১ হাজার ১৩৭ মার্কিন ডলার) প্রশাসনিক জরিমানের বিধান রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থী অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে এই অর্থ পরিশোধের দায়ভার বর্তাবে তার অভিভাবকের ওপর। তবে মুখমণ্ডল খোলা রেখে সাধারণ হিজাব পরিধানে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য হবে না বলে জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী জিউসেপ ভালদিতারা বিষয়টির কঠোর প্রয়োগের রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, কেউ যদি নিকাব বা মুখ ঢেকে স্কুলে আসে, তবে তাকে ক্লাসে বা শিক্ষামূলক কোনো কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে দেওয়া হবে না এবং নিয়ম অমান্যকারী শিক্ষার্থীর পরিবারকে ২০০ থেকে ১ হাজার ইউরো জরিমানা করা হবে। শিক্ষামন্ত্রী আরও সতর্ক করে জানান, ধর্মীয় বা পোশাক সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার অজুহাতে যদি কোনো অভিভাবক তাদের সন্তানকে স্কুলে পাঠানো থেকে বিরত রাখেন, তবে ‘কাইভানো’ অধ্যাদেশের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে দায়ী অভিভাবকদের সর্বোচ্চ ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
পোশাকের বিধিনিষেধের পাশাপাশি ডিক্রিটিতে অ-ইতালীয় শিক্ষার্থীদের বিষয়েও নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে। ইতালির নাগরিকত্ব নেই এমন নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রথম বর্ষের ক্লাসে অংশগ্রহণে ৩০ শতাংশের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করেছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশটির প্রায় ৩৪ হাজার শ্রেণিকক্ষে অভিবাসী বা বিদেশি শিক্ষার্থীর হার ৩০ শতাংশের বেশি। তথাকথিত “বিচ্ছিন্ন শ্রেণিকক্ষ” বা ঘেটো -সদৃশ পরিবেশ গড়ে ওঠা রোধে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে ইতালিতে জন্ম না নেওয়া বা দুই বছরের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা না থাকা শিশু এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে অন্তত ৩ বছর ইতালীয় শিক্ষাব্যবস্থায় না থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম বলবৎ হবে।



