পিএনসি, শিলচর।
বারাক তরঙ্গ, ২৬ সেপ্টেম্বর: জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP)-এর অধীনে আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য সোনাইস্থিত বরাক মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরিতে শনিবার এক শিক্ষামূলক ও ব্যবহারিক ফিল্ড ওয়ার্কের আয়োজন করা হয়। আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগ এবং জ্ঞান ভারতম্ ক্লাস্টার সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনে সংস্কৃত বিভাগের অধ্যক্ষা প্রফেসর শান্তি পোখরেল, প্রফেসর গোবিন্দ শর্মা, ড. কল্লোল রায়, ড. মিলন বর্মণ-সহ গবেষক-গবেষিকারা অংশ নেন। পাশাপাশি করিমগঞ্জ কলেজের শিক্ষার্থীরাও ফিল্ড ওয়ার্কে যোগ দেন। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ কলেজের অতিথি অধ্যাপিকা পুষ্পিতা চক্রবর্তী।
বরাক উপত্যকার ইতিহাস, সংস্কৃতি ও লোকঐতিহ্য সংরক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বরাক মিউজিয়াম অ্যান্ড লাইব্রেরি। মিউজিয়ামের স্বত্বাধিকারী তথা আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মণিপুরী বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর রাজমণি সিংহা শিক্ষার্থীদের সংরক্ষিত বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সামগ্রী সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। বিশেষভাবে মণিপুরি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং প্রাচীন নিদর্শনগুলির সঙ্গে তাঁদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
মিউজিয়ামে প্রাচীন অস্ত্রশস্ত্র, বাদ্যযন্ত্র, দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী, পুরনো টেলিভিশন, রেডিও ও টেলিফোনসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক উপকরণ রয়েছে। পাশাপাশি মণিপুরী ভাষার প্রাচীন পাণ্ডুলিপিও সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সরাসরি এসব নিদর্শন পরিদর্শন করে সেগুলির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।

এদিন পাণ্ডুলিপি সংরক্ষণ ও ডিজিটাইজেশন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। সংস্কৃতি মন্ত্রক, ভারত সরকারের অধীন জ্ঞানভারতম্ গ্রুপ সেন্টার, আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রফেসর গোবিন্দ শর্মা এবং বরাক মিউজিয়ামের প্রধান প্রফেসর রাজমণি সিংহা পাণ্ডুলিপির বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ, ডিজিটাইজেশন ও ডিজিটাল নথিভুক্তকরণের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন। জ্ঞান ভারতম্-এর অধীনে থাকা পাণ্ডুলিপিগুলির সংরক্ষণ ও ডিজিটাইজেশনের কাজ দ্রুত শুরু করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এই ফিল্ড ওয়ার্কের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, ঐতিহাসিক নিদর্শন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সেগুলির সংরক্ষণ ও ডিজিটাইজেশনের ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। NEP-এর অভিজ্ঞতাভিত্তিক ও ক্ষেত্রভিত্তিক শিক্ষার লক্ষ্যকে সামনে রেখেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।



