বরাক তরঙ্গ, ২৫ সেপ্টেম্বর : ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে শুক্রবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি গুয়াহাটিতেও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হওয়ার মধ্যেই অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি ও সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটির শীর্ষ নেতৃত্ব এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়।
বিক্ষোভ চলাকালীন অসম পুলিশ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা সাংসদ গৌরব গগৈকে আটক করে। তাঁর পাশাপাশি কংগ্রেসের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাকেও আটক করা হয় বলে জানান অসম প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির মিডিয়া বিভাগের সভাপতি বেদব্রত বরা।
বরা জানান, গৌরব গগৈ ছাড়াও সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সম্পাদক মনোজ চৌহান, সেবা দলের সভাপতি দ্বীপ বায়ন, প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক উদিত ভানু দাস, নেত্রী বিদিশা নেওগ, মৌসুমী নেওগ, তাজিকা পারভিন, মইনাজান বেগম, শান্তনু বরা, গোলাম মুস্তাক ওসমানি, অঙ্কুর রাজ গগৈ এবং আনোয়ার হুসেনসহ মোট ১৫ জনকে পুলিশ আটক করে কাহিলিপাড়ার ১০ এপিবিএনে নিয়ে যায়।

প্রতিবাদের সময় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া বক্তব্যে গৌরব গগৈ জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন। তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি। গগৈয়ের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের কাজকর্মে অনিয়ম হয়েছে এবং ভোটার তালিকার সুরক্ষা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
গগৈ বলেন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে দেশের নাগরিকদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত এবং গণতন্ত্র রক্ষায় ভোটার তালিকার সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অভিযোগ, কমিশন সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছে না।

বিক্ষোভে অংশ নিয়ে কংগ্রেস নেতা রিপুন বরা, দেবব্রত শইকিয়া, বিরোধী দলনেতা ওয়াজেদ আলি চৌধুরী এবং সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সম্পাদক মনোজ চৌহানও নির্বাচন কমিশনের কার্যপ্রণালী নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার প্রতিবাদেই কংগ্রেসের এই আন্দোলন।
গৌরব গগৈ আরও বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও দেশের মানুষকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।




