২২ সেপ্টেম্বর : বিহারের জামুইয়ে কিশোরীকে শ্লীলতাহানি ও হেনস্তার ঘটনায় পুলিশের অভিযানে গুলিবিদ্ধ হলেন মূল অভিযুক্ত নন্দন যাদব। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারের সময় পুলিশের হাত থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। পায়ে গুলি লাগায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিহার পুলিশের এডিজি (ল অ্যান্ড অর্ডার) সুহিনা অনুপম জানান, নন্দন যাদবকে গ্রেফতার করতে গেলে তিনি পালানোর চেষ্টা করেন। সেই সময় পুলিশ গুলি চালায়। একই মামলার আরেক অভিযুক্ত হরেরাম যাদবকে ধরতে গিয়েও পুলিশের গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। দু’জনকেই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে দাবি, মামলার সব অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন নাবালকও রয়েছে।
এদিকে, ঘটনায় নির্যাতিত কিশোরীর পরিচয় প্রকাশ এবং ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে প্রায় ১২০টি সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। বিহার পুলিশ জানিয়েছে, আক্রান্ত নাবালক-নাবালিকার ছবি, ভিডিও, নাম বা পরিচয় প্রকাশ করে এমন কোনও তথ্য সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া পকসো আইন, তথ্যপ্রযুক্তি আইন এবং জুভেনাইল জাস্টিস আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, পকসো আইনের ২৩ নম্বর ধারা অনুযায়ী, নির্যাতিত নাবালকের পরিচয় প্রকাশ করা নিষিদ্ধ। আইন লঙ্ঘন করলে কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে। পুলিশ সাধারণ মানুষকে নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ করে এমন কোনও ছবি বা তথ্য প্রচার না করারও সতর্কতা দিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার জামুইয়ের একটি স্থানীয় স্কুলের দুই পড়ুয়া কোচিং শেষে মাদওয়া পাহাড় এলাকায় গিয়েছিল। ফেরার পথে কয়েকজন তাঁদের পথ আটকে হেনস্তা করে বলে অভিযোগ। ঘটনার ভিডিও অভিযুক্তদের একজন ধারণ করে এবং পরে তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। ঘটনায় কিশোরীর পাশাপাশি তার সঙ্গীকেও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।




