২০ সেপ্টেম্বর : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিএনএন (CNN), এমএস নাউ (MS NOW) ও পলিটিকো (POLITICO)-কে হোয়াইট হাউসে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেওয়ার এক দিন পরই ওই তিন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে প্রবেশের সময় সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের কয়েকজনের প্রেস পাস অকার্যকর বলে জানানো হয়।
সিএনএনের হোয়াইট হাউস সংবাদদাতা বেটসি ক্লেইন জানান, হোয়াইট হাউসে পৌঁছালে সিক্রেট সার্ভিসের এক কর্মকর্তা তাঁকে জানান, তাঁর প্রেস পাস নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। পরে তাঁকে পাসটি জমা দিতে বলা হয়।
একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হন এমএস নাউয়ের প্রতিবেদক আকায়লা গার্ডনার। তাঁর এবং এক ফটোসাংবাদিকের প্রেস ব্যাজ কাজ না করায় নিরাপত্তাকর্মীরা তা নিয়ে নেন। কেন তাঁদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি বলে জানান গার্ডনার। পলিটিকোর প্রতিবেদক শেয়েন হাসলেটকেও হোয়াইট হাউসে ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং তাঁর প্রেস পাস প্রত্যাহার করা হয়।
এর আগে শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেন। তাঁর অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান তাঁর প্রশাসন নিয়ে ‘ভুয়া’, ‘কাল্পনিক’ ও ‘মিথ্যা’ প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিবেদনকে নিষেধাজ্ঞার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেননি তিনি। পরে ট্রাম্প জানান, কয়েক বছরের সম্মিলিত কভারেজ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আরও সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে একই পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিতও দেন তিনি।
তিন সংবাদমাধ্যমই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছে। সিএনএন এটিকে সরকারি কর্মকাণ্ডের স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহের সাংবিধানিক অধিকারের ওপর আঘাত বলে অভিহিত করেছে। এমএস নাউ ও পলিটিকোও সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (WHCA) সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার প্রত্যাহারের সমালোচনা করে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন পছন্দ না হওয়াকে প্রবেশাধিকার বন্ধের ভিত্তি করা উচিত নয়।
রিপোর্টার্স কমিটি ফর ফ্রিডম অব দ্য প্রেসও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে এবং জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞাটি আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এর আগে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আইনি বিরোধ দেখা দিয়েছিল। নতুন ঘটনায় সেই বিতর্ক ফের সামনে এসেছে।



