বরাক তরঙ্গ, ২০ সেপ্টেম্বর : দেখতে দেখতে কেটে গেল একটি বছর। ক্যালেন্ডারের পাতায় সময় এগিয়ে গেলেও অসমের কোটি মানুষের হৃদয়ে আজও অমলিন ‘জুবিন’ নামটি। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে অসম তথা ভারতবর্ষের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জুবিন গর্গের আকস্মিক প্রয়াণ যেন সংগীতজগতের পাশাপাশি তাঁর অগণিত অনুরাগীর হৃদয়ে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করে দিয়েছিল। সেই শূন্যতা আজও পূরণ হয়নি।
নিয়তির নির্মম পরিহাসে প্রিয় শিল্পীকে হারানোর এক বছর পরও একটুও ফিকে হয়নি জুবিন-প্রেম। বরং সময় যত এগিয়েছে, তাঁর গান, তাঁর কণ্ঠ, তাঁর স্মৃতি যেন আরও গভীরভাবে জায়গা করে নিয়েছে মানুষের হৃদয়ে। প্রথম প্রয়াণবার্ষিকীতে শনিবার রাজ্যজুড়ে অগণিত মানুষ নানাভাবে তাঁদের প্রিয় শিল্পীকে স্মরণ করেন। হাইলাকান্দিও তার ব্যতিক্রম ছিল না।
জেলার বিভিন্ন প্রান্তে রক্তদান শিবির, স্মরণসভা ও শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জুবিন গর্গকে স্মরণ করা হয়। সেই আবেগঘন আবহেই শনিবার রাতে হাইলাকান্দি শহরের শর্মাপাড়ায় বিশিষ্ট সিন্থেসাইজার বাদক বিশ্বরূপ শর্মা (রাজা)-র বাসভবনে গড়ে ওঠা ডিজিটাল স্টুডিও ‘শিবাংশ’-এ অনুষ্ঠিত হয় এক আন্তরিক ও ঘরোয়া স্মরণানুষ্ঠান।
বিশ্বরূপ শর্মার পরিচালনায় আয়োজিত এই স্মরণসভায় জুবিন গর্গের জীবন, সংগীতসাধনা, শিল্পীসত্তা এবং মানুষের সঙ্গে তাঁর গভীর আত্মিক সম্পর্কের নানা দিক তুলে ধরেন সাংস্কৃতিক কর্মী শংকর চৌধুরী, কণ্ঠশিল্পী তথা প্রিসাইন্সিয়া সিনিয়র সেকেন্ডারি স্কুলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. অভিজিৎ মিত্র, নাট্যকর্মী তথা শিক্ষক বিপ্লব দাস, কণ্ঠশিল্পী তথা শিক্ষক রাহুল দেব, শিক্ষিকা গৌতমী শর্মা, রত্নরাজ পণ্ডিত প্রমুখ।
আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে উঠে আসে জুবিনকে ঘিরে অসংখ্য স্মৃতি, তাঁর গান শোনার মুহূর্ত, তাঁর কণ্ঠের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা। প্রিয় শিল্পীর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অনেকের কণ্ঠেই ফুটে ওঠে আবেগ।
এরপর স্টুডিও শিবাংশের পরিবেশ আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে। উপস্থিত শিল্পীরা নিজেদের মতো করে জুবিন গর্গের জনপ্রিয় গান পরিবেশন করেন। কখনও গানের সুরে, কখনও স্মৃতিচারণে, কখনও নীরবতায় যেন ফিরে আসে সেই চিরচেনা জুবিন।
এক বছর পেরিয়ে গেলেও জুবিন নেই—এই সত্য আজও যেন বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় তাঁর অনুরাগীদের। তবে তাঁর গান আছে, তাঁর সুর আছে, তাঁর অসংখ্য সৃষ্টি আছে। আর সেই সৃষ্টির মধ্যেই তিনি বেঁচে থাকবেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম।
জুবিন চলে গেছেন, কিন্তু জুবিনের গান থামেনি—আর থামবেও না।



