বরাক তরঙ্গ, ১৯ সেপ্টেম্বর : শিলচরের সাংস্কৃতিক জগতের বিশিষ্ট বাচিকশিল্পী সঞ্চয়িতা ভট্টাচার্য (চৌধুরী) আর নেই। তিনি আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক বিশ্বতোষ চৌধুরীর স্ত্রী। সঞ্চয়িতা ভট্টাচার্য দীর্ঘদিন ধরে নানা শারীরিক জটিলতার সঙ্গে লড়াই করার পর শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ শিলচরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। শনিবার শিলচর শ্মশানঘাটে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
বাচিকশিল্পের জগতে সঞ্চয়িতা ভট্টাচার্য ছিলেন অত্যন্ত পরিচিত ও সমাদৃত নাম। তাঁর কণ্ঠে কবিতা পেত প্রাণের স্পর্শ। আকাশবাণী শিলচর ও দূরদর্শন কেন্দ্রের পরিচিত মুখ হিসেবে আশির দশকের মাঝামাঝি থেকে নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত তিনি মঞ্চ ও বেতারে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন। আবৃত্তির পাশাপাশি অনুষ্ঠান সঞ্চালনা, আসর পরিচালনা এবং মঞ্চ ও বেতার নাটকেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।
কবিতা ও আবৃত্তির প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের কথা বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে তাঁর লেখায়। জীবনের একটি কঠিন পর্বে ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তাঁর স্বাভাবিক ছন্দ কিছুটা ব্যাহত হলেও পরবর্তীতে তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত আর সুস্থ হয়ে ওঠা সম্ভব হলো না।
তাঁর প্রয়াণে বরাক উপত্যকার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সৃষ্টি হয়েছে অপূরণীয় শূন্যতা। মৃত্যুকালে তিনি স্বামী অধ্যাপক বিশ্বতোষ চৌধুরী, দুই কন্যা এবং অসংখ্য গুণমুগ্ধকে রেখে গেছেন। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে শোকস্তব্ধ সহকর্মী, শিল্পী ও অনুরাগীরা।



