শমীন্দ্ৰ পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ১৩ সেপ্টেম্বর : পাঁচগ্রাম পেপার মিলের কো-অপারেটিভের অধীন কর্মরত ৪৮২ জন শ্রমিকের বকেয়া মাসোহারা প্রদান সহ একাধিক দাবিতে সরব হল ভারতীয় মজদুর সংঘের অধীন আসাম উদ্যোগিক মজদুর সংঘ, বিএনএস। রবিবার পাঁচগ্রাম পেপার মিলের সম্মুখে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে রাজ্য সরকারের কাছে দ্রুত সমাধানের দাবি জানানো হয়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পাঁচগ্রামে হিন্দুস্তান পেপার কর্পোরেশন (এইচপিসি) বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর রাজ্য সরকার সংস্থার পার্মানেন্ট কর্মচারীদের ২৮ মাসের বেতন প্রদান করেছে। অথচ কো-অপারেটিভের অধীন ৪৮২ জন শ্রমিককে মাত্র ১২ মাসের মাসোহারা দেওয়া হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন ওই শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে কিছুদিন পূর্বেই কাটিগড়ার বিধায়ক কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থের মাধ্যমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে একটি স্মারকপত্র প্রদান করা হয়েছে বলেও সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এবার বরাকের দুই মন্ত্রী সহ সকল বিধায়কের কাছে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীর মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধানের ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছে মজদুর সংঘ।
মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইল ভারতীয় মজদুর সংঘের অধীন আসাম উদ্যোগিক মজদুর সংঘ
সংগঠনের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন-মাসোহারা না পাওয়ায় শ্রমিকদের একাংশ চরম দুরবস্থার মধ্যে রয়েছেন। ইতিমধ্যে অনেক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং বহু শ্রমিকের কর্মক্ষমতাও কমে গেছে। এই পরিস্থিতিতে তাঁদের বকেয়া পাওনা মেটানো মানবিক ও ন্যায্য দাবি বলেই উল্লেখ করেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে মূলত তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়। প্রথমত, কো-অপারেটিভের অধীন ৪৮২ জন শ্রমিককে আরও এক বছরের বকেয়া মাসোহারা প্রদান করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কাছাড় পেপার মিলের পরিত্যক্ত পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে যে লজিস্টিক পার্ক গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেখানে স্থানীয়দের পাশাপাশি ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে হবে। ইতিমধ্যে একটি কোম্পানি এসে সেখানে কাজ শুরু করেছে বলেও জানানো হয়।
তৃতীয়ত, বৃহত্তর এলাকার বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে লজিস্টিক পার্ক এলাকায় আরও বিভিন্ন শিল্প ও সংস্থাকে নিয়ে এসে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা পেপার মিল এলাকার সম্পদ ও পরিকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে একদিকে প্রাক্তন শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা মেটানো, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। এ বিষয়ে বরাকের জনপ্রতিনিধিদের সম্মিলিত উদ্যোগে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে আসাম উদ্যোগিক মজদুর সংঘ।



