ব্রিকসের মঞ্চে সংঘাত নিরসনে আলোচনার বার্তা মোদির

Spread the news

৩০ হাজারেরও বেশি নিষেধাজ্ঞার মুখেও রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে চলেছে : পুতিন

১১ সেপ্টেম্বর : ইরান-আমেরিকা উত্তেজনা এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে ভারতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনের মঞ্চ থেকে আন্তর্জাতিক সংঘাত নিরসনে আলোচনার পক্ষে বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সরাসরি কোনও দেশকে নিশানা না করলেও সমুদ্রপথে বাণিজ্যের নিরাপত্তা ও নাবিকদের সুরক্ষার প্রসঙ্গ তুলে তাঁর বক্তব্য রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শুক্রবার মোদি বলেন, নৌচলাচলের স্বাধীনতা এবং নাবিকদের নিরাপত্তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন তিনি।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব ভারতেও পড়েছে।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বাড়ায় জ্বালানি পরিবহণ ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে ব্রিকসের মঞ্চে মোদির বক্তব্যকে সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে ভারতের অবস্থানের পুনরুচ্চারণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

সম্মেলনের আগে মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পরে দিল্লিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পুতিন জি৭-এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং ব্রিকসের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞারও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, ৩০ হাজারেরও বেশি নিষেধাজ্ঞার মুখেও রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে চলেছে।

এদিকে, ব্রিকস সম্মেলনে পুতিনকে ভারতের প্রাচীন তামিল সাহিত্যকর্ম ‘থিরুক্কুরাল’-এর রুশ অনুবাদ উপহার দেন মোদি। ভারত-রাশিয়া সম্পর্কের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন আরও জোরদারে এই উপহার প্রতীকী ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *