বরাক তরঙ্গ, ১১ সেপ্টেম্বর : বিজ্ঞানমনস্কতা প্রসার, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও শিক্ষায় সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পরিবেশ রক্ষার দাবিতে শুক্রবার গুয়াহাটিতে পদযাত্রা করল ‘ইন্ডিয়া মার্চ ফর সায়েন্স’-এর গুয়াহাটি চ্যাপ্টার। কটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে থেকে দিঘলীপুখুরির পাড় পর্যন্ত এই পদযাত্রার আয়োজন করা হয়।
পদযাত্রা শুরুর আগে কটন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের গুয়াহাটি চ্যাপ্টারের আহ্বায়ক পিন্টু দেবনাথ। তিনি বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে চললেও বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানমনস্কতার ওপর নানা ধরনের আক্রমণ বাড়ছে। ভারতে অবৈজ্ঞানিক ধারণা ও কুসংস্কারের প্রসার বিজ্ঞানের অগ্রগতির ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বর্তমানে আর দূরবর্তী কোনো আশঙ্কা নয়, বরং বাস্তব সংকট। চরম আবহাওয়া, হিমবাহ গলে যাওয়া, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বাস্তুতন্ত্রের বিপর্যয় এবং বিভিন্ন প্রজাতির বিলুপ্তি পরিস্থিতির গভীরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। অথচ একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও ঘোষণার পরও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ যথেষ্ট নয় বলে দাবি করেন তিনি।
বক্তার অভিযোগ, ভারতে ব্যাপক হারে বনভূমি ধ্বংস, ভূগর্ভস্থ জলের স্তর হ্রাস এবং নদী ও জলাশয় দূষণ অব্যাহত রয়েছে। ‘উন্নয়ন’-এর নামে বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং পরিবেশ ও বন সুরক্ষা সংক্রান্ত আইন দুর্বল করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
ভারতের বৈজ্ঞানিক ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে দেবনাথ বলেন, দেশের সমৃদ্ধ বিজ্ঞানচর্চার ইতিহাস গর্বের বিষয় হলেও যাচাইহীন ও অবৈজ্ঞানিক দাবিকে বিজ্ঞানের নামে প্রচার করা সেই ঐতিহ্যকে বিকৃত করে। শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও যুক্তিবাদী চিন্তার গুরুত্ব আরও বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
এদিনের কর্মসূচি থেকে পাঠ্যক্রমে বিজ্ঞানভিত্তিক বিষয়বস্তু বজায় রাখা, কুসংস্কার ও অবৈজ্ঞানিক প্রথার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবেশ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি আসামের কাজিরাঙ্গা ইকো-জোনের পরিধি হ্রাসের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানায় সংগঠনটি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানমনস্কতার গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে



