বরাক তরঙ্গ, ১১ সেপ্টেম্বর : প্রখ্যাত লোকসঙ্গীত শিল্পী কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্যকে তাঁর জন্মদিন ও লোকসংহতি দিবস উপলক্ষে হৃদয়ের গভীর অনুভূতি দিয়ে স্মরণ করলেন হাইলাকান্দির সংস্কৃতিকর্মী ও সঙ্গীতপ্রেমীরা। শুক্রবার বিকেলে নজরুল সদনের মুক্ত প্রাঙ্গণে হাইলাকান্দির সংস্কৃতিপ্রেমী জনগণের উদ্যোগে অনাড়ম্বরভাবে ‘কালিকা স্মরণ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কবি ও প্রাবন্ধিক সুশান্ত মোহন চট্টোপাধ্যায়। এরপর কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্যের জীবন, কর্ম ও লোকসংগীতে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেন শঙ্কর চৌধুরী, শতানন্দ ভট্টাচার্য, কবি আশুতোষ দাস, অভিজিৎ মিত্র ও পূরবী মিশ্র দেবনাথ।
বক্তারা বলেন, কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্য বরাক উপত্যকার মাটির সুর, লোকজ ঐতিহ্য ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে তাঁর সৃষ্টির মাধ্যমে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরেছিলেন। তাঁর কণ্ঠে লোকগান পেয়েছিল নতুন মাত্রা। লোকসংগীতের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ এবং সৃষ্টিশীল প্রয়াস আজও শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

তাঁরা আরও বলেন, কালিকা প্রসাদের গান শুধু বিনোদনের মাধ্যম ছিল না; তা ছিল মাটি, মানুষ, শিকড় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীর সংযোগের এক শক্তিশালী প্রকাশ। তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়ে বরাকের লোকসংগীত দেশ-বিদেশের শ্রোতাদের কাছে পরিচিতি লাভ করে। তাঁর স্মরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে লোকসংগীতের ঐতিহ্যকে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন কবিতা দাস। কালিকা প্রসাদের স্মৃতি ও সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনাড়ম্বর স্মরণানুষ্ঠানে উপস্থিত সংস্কৃতিপ্রেমীরা গভীর শ্রদ্ধায় তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বক্তারা বলেন, কালিকা প্রসাদের মতো শিল্পীর স্মরণ কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁর সৃষ্টিকে চর্চা ও সংরক্ষণের মাধ্যমে জীবন্ত রাখা প্রয়োজন।

এদিনের অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মী, শিল্পী, সঙ্গীতপ্রেমী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্যের গান ও সাংস্কৃতিক অবদানের স্মৃতিচারণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি আবেগঘন হয়ে ওঠে। বড় কোনও আয়োজন নয়, ভালোবাসা ও হৃদয়ের অনুভূতিই এদিনের কালিকা স্মরণকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।



