বরাক তরঙ্গ, ১১ সেপ্টেম্বর : সেতুর একাংশ ও অ্যাপ্রোচ ধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, বিকল্প পথও বেহাল। বছরের পর বছর উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও গহপুরের উত্তরাঞ্চলে তার বাস্তব চিত্র এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বেহাল সড়ক ও ভাঙাচোরা সেতুর মাধ্যমে। অসম-অরুণাচল প্রদেশ সীমান্তবর্তী ঐতিহাসিক রাজগড় আলি, অর্থাৎ গোঁহাই কমল আলির যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুই রাজ্যের সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। গহপুর রাজস্ব সার্কলের উত্তরাঞ্চলের ৫০টিরও বেশি গ্রামের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক।
থাইচ’গুড়িতে সোলেঙ্গি নদীর উপর নির্মিত পাকা সেতুটির পূর্বপ্রান্ত গত ১৯ আগস্ট সকালে নদীর বন্যার জলে প্রায় ৭৫ শতাংশ ভেঙে যায়। এর পর থেকেই ওই পথে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে পড়ে।
সেতুর সংযোগস্থল ভেঙে যাওয়ার পরও সরকার, প্রশাসন এবং পূর্ত বিভাগের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন কোনও উল্লেখযোগ্য মেরামতির উদ্যোগ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত নিজেদের অর্থ খরচ করে স্থানীয় বাসিন্দারাই সেতুটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের চেষ্টা করেন। কিন্তু নদীর প্রবল স্রোতের কাছে সেই উদ্যোগও টেকেনি। সম্প্রতি ফের ভাঙন দেখা দেওয়ায় সেতুর ওই অংশ আরও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বর্তমানে সেতুটির উপর দিয়ে শুধুমাত্র দু’চাকার যানবাহন চলাচল করতে পারছে। চারচাকার হালকা যানবাহন থেকে শুরু করে ভারি যানবাহনের চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি পরিষেবা পেতে ব্যাপক সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে।

রাজগড় আলি দিয়ে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃহত্তর এলাকার মানুষের জন্য এনসি সোনাপুর থেকে টিঙালীবাড়ি, রজাবাড়ি ও সোলেঙ্গি হয়ে ১৫ নম্বর জাতীয় সড়কে পৌঁছানোর পথটিই এখন কার্যত একমাত্র বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এনসি সোনাপুর থেকে টিঙালিবড়ি পর্যন্ত সড়কেরও বেহাল দশা। ফলে বিকল্প এই পথটিও স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমানোর পরিবর্তে নতুন করে সমস্যার সৃষ্টি করছে।
এ অবস্থায় দ্রুত রাজগড় আলির ক্ষতিগ্রস্ত অংশের স্থায়ী সংস্কার এবং বিকল্প সড়কটির মেরামতির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সীমান্তবর্তী এতগুলি গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও পূর্ত বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।



