৭ সেপ্টেম্বর : রবিবার দুপুরে দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় একটি ছয় তলা ভবন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ার ঘটনায় অন্তত ছ’জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরও দু’জন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বেশ কয়েকজন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে দ্রুত উদ্ধারকাজ চালিয়ে এ পর্যন্ত ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে উদ্ধারকারী দল। মর্মান্তিক এই ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী এই ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট স্তরের তদন্ত এবং ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাউথ ক্যাম্পাসের অত্যন্ত কাছে অবস্থিত সত্য নিকেতন অঞ্চলটি মূলত ছাত্রছাত্রীদের আবাস হিসেবে পরিচিত। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছরের পুরনো ওই ভবনে বেসমেন্ট সহ মোট পাঁচটি উপরিতল ছিল, যেখানে ‘হোস্টেল ডেজ’ নামের একটি পুরুষদের পেয়িং গেস্ট (PG) আবাসন চলত। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বেসমেন্টে সংস্কারের কাজ চলার সময়ই মূলত এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

খবর পাওয়া মাত্রই দিল্লি পুলিশ, এনডিআরএফ (NDRF), দিল্লি ফায়ার সার্ভিস এবং ডিডিএমএ (DDMA)-র যৌথ দল ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। ১২টি দমকলের ইঞ্জিন, উদ্ধারকারী দল এবং ক্যাটস অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করে। ধ্বংসস্তূপ সরাতে একটি এক্সকাভেটর মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় বাসিন্দারাও হাত লাগিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে সাহায্য করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় দুর্ঘটনার সময় ভবনটির ভেতরে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পার্শ্ববর্তী একটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনও খালি করে দেওয়া হয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুততার সঙ্গে উদ্ধারকাজ পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘটনার একটি ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত এবং গুরগাঁও নিবাসী ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়েরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর তরণজিৎ সিং সান্ধুও সমস্ত সংস্থাকে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তীব্র তরজা। আম আদমি পার্টি (AAP) নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ একে দুর্নীতির ফল হিসেবে দাবি করে মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অব দিল্লি (MCD)-র ভবন বিভাগে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এটিকে একটি “এড়ানো সম্ভব ছিল এমন ট্র্যাজেডি” বলে উল্লেখ করে বলেন যে, শহরে পর্যাপ্ত সরকারি হোস্টেল সুবিধার অভাব থাকায় শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়েই এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও অতিরিক্ত ভিড়যুক্ত পিজিতে বসবাস করতে বাধ্য হন।


