বরাক তরঙ্গ, ৬ সেপ্টেম্বর : একই ধরনের শ্রম, অথচ মজুরিতে বৈষম্য কেন—এই প্রশ্নকে সামনে রেখে চা শ্রমিকদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় চা মজদুর সংঘ। মজুরি বৃদ্ধি, বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার চা শ্রমিকদের মজুরির বৈষম্য দূরীকরণ, বাগান এলাকায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা—এই চারটি প্রধান দাবিতে রবিবার শিলচরে সংগঠনের বরাক উপত্যকা শাখার উদ্যোগে প্রতিবাদ ও সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি ড. অনিল কুমার ত্রিপাঠীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বরাক উপত্যকার প্রায় ৪০টি চা বাগানের শ্রমিক প্রতিনিধি এবং বাগান পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চা শ্রমিকরা নানা আর্থ-সামাজিক সমস্যার মধ্যে কাজ করছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমিকদের আয় না বাড়ায় তাঁদের পরিবারের উপর আর্থিক চাপ ক্রমশ বাড়ছে।
সভায় মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তাদের অভিযোগ, বাজারে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও সেই অনুপাতে চা শ্রমিকদের আয় বৃদ্ধি পায়নি। ফলে বহু শ্রমিক পরিবারকে আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে। দ্রুত শ্রমিকদের মজুরি পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়।

একই সঙ্গে বরাক ও ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার চা শ্রমিকদের মজুরির পার্থক্য নিয়েও সরব হন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের বক্তব্য, একই ধরনের শ্রমের ক্ষেত্রে দুই উপত্যকার শ্রমিকদের মজুরিতে বৈষম্য থাকা উচিত নয়। তাই ব্রহ্মপুত্র উপত্যকার শ্রমিকদের সমপরিমাণ মজুরি বরাক উপত্যকার শ্রমিকদের দেওয়ার দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা ও পানীয় জলের সমস্যাও সভায় গুরুত্ব পায়। বক্তারা জানান, চা শ্রমিক পরিবারের বহু শিশু উচ্চশিক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই বাগান এলাকায় উচ্চশিক্ষার উপযুক্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি শ্রমিক বসতিগুলিতে পর্যাপ্ত ও বিশুদ্ধ পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সভাপতি ড. অনিল কুমার ত্রিপাঠী, সাধারণ সম্পাদক কাঞ্চন সিং, প্রধান অতিথি উদয় শংকর গোস্বামী, সম্মানীয় অতিথি আওদেশ কুমার সিং, সহ-সভাপতি বিশ্বজিৎ গোয়ালা ও সুরেন্দ্র প্রসাদ যাদব। উপস্থিত ছিলেন শ্রীভূমি চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মধু চন্দ্র লোহার। এছাড়া বরাক উপত্যকার চা বাগানগুলির ৭৮টি পঞ্চায়েত সংগঠনের সভাপতি ও সম্পাদকরাও সভায় অংশ নেন।
সভা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংগঠনের একটি প্রতিনিধি দল মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মজুরি বৃদ্ধি, উপত্যকা দুটির মজুরি বৈষম্য দূরীকরণ, চা বাগান এলাকায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থা করার দাবিগুলি তুলে ধরবে।



