২ সেপ্টেম্বর : উত্তরাখণ্ড থেকে উত্তরপ্রদেশ এবং ঝাড়খণ্ড—টানা ভারি বৃষ্টিতে উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উত্তরাখণ্ডে লাগাতার বৃষ্টির জেরে অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধসের কারণে ১৭০টিরও বেশি রাস্তা বন্ধ হয়ে রয়েছে। আলমোড়ায় বাড়ি ধসে পড়ার পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় একাধিক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। দেরাদুন-মুসৌরি রুটসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়কও অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
গোলা, কোসি ও শিপ্রা নদীর জলস্তর বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। ফলে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এসডিআরএফ এবং পূর্ত দপ্তর উদ্ধারকাজের পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নৈনিতাল, তেহরি ও দেরাদুনসহ পাঁচ জেলায় কমলা ও হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশেও ভারী বৃষ্টির জেরে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গঙ্গার জলস্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় নদী সংলগ্ন বহু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বারাণসীর ৮৪টি ঘাট জলের তলায় চলে গিয়েছে। বন্যার আশঙ্কায় নিচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিত্রকূটে মন্দাকিনী নদীর জলস্তর বাড়ায় রামঘাট, নির্মোহী আখড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। রামঘাট ও নয়াগাঁওয়ের মধ্যে সংযোগকারী সেতুটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মৌসম ভবনের তথ্য অনুযায়ী, প্রতাপগড়ে ১৪৭ মিলিমিটার, সোনভদ্রে ১৪০ মিলিমিটার এবং কানপুরে ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরপ্রদেশের ২০টিরও বেশি জেলায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ঝাড়খণ্ডেও হড়পা বান নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দপ্তর। গড়ওয়া, পালামু, লাতেহার, লোহারদাগা, গুমলা, সরাইকেলা-খারসওয়ান, পূর্ব সিংভূম, সিমডেগা, খুঁটি ও পশ্চিম সিংভূম জেলায় হড়পা বান হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়ওয়া, পালামু, সিমডেগা এবং পশ্চিম সিংভূমে লাল সতর্কতা জারি থাকবে।
সব মিলিয়ে, টানা বৃষ্টি, বন্যা ও ধসের জেরে তিন রাজ্যেই স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর লাগাতার নজরদারি চালানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



