রাজীব মজুমদার, ধলাই।
বরাক তরঙ্গ, ২ সেপ্টেম্বর : মিজোরামে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের জেরে গত তিনদিন ধরে ফুলেফেঁপে উঠেছে রুক্নী নদী। নদীর জলস্তর বিপদসীমা অতিক্রম করতেই দক্ষিণ ধলাইয়ের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জলমগ্ন হয়েছে একাধিক গ্রাম, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। কয়েক শত বিঘা আমন ধানক্ষেত বর্তমানে জলের তলায় থাকায় ব্যাপক ফসলহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রুক্নী নদীর জল ঢুকে দক্ষিণ ধলাইয়ের সপ্তগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের সপ্তগ্রাম, আর্যনপুর, লোকনাথপুর ও ইসলামাবাদ, শ্যামাচরণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের খাসপুর এবং রাজনগর-খুলি চড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সরসপুর, রাজনগর-সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রাম গত তিনদিন ধরে প্লাবিত রয়েছে। বহু বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট জলের তলায় চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। বিশেষ করে সপ্তগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের লোকনাথপুর, আর্যনপুর ও সপ্তগ্রাম এলাকায় শতাধিক বাড়িঘর জলমগ্ন হয়ে পড়েছে । রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, সদ্য কৃষিকাজ শেষ করে ধানক্ষেত নিয়ে আশায় বুক বেঁধেছিলেন কৃষকরা। কিন্তু এই সময়ে হঠাৎ বন্যার জলে ফসল ডুবে যাওয়ায় তাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। কৃষকদের বক্তব্য, বর্তমানে জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেলে নতুন করে চাষ করার মতো সময়, বীজ ও শ্রম, কোনোটিই সহজে পাওয়া যাবে না। ফলে এই বন্যা তাঁদের কৃষিজীবনে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

বন্যার পাশাপাশি রুকনি উপত্যকা অঞ্চলে আরেকটি গুজবকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রুকনি নদীর উজানে মিজোরাম অংশে অবস্থিত সেরলুই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধের উপর দিয়ে জল উপচে পড়ছে ,এমন একটি গুজব এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এই দাবির সত্য নয়। গুজবের জেরে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, সেরলুই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাঁধ নির্মাণের পর দীর্ঘদিন রুক্নী নদীতে বড় ধরনের বন্যা দেখা যায়নি। ফলে নদীর আশপাশের অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকাতেও ধীরে ধীরে বসতি গড়ে উঠেছে। বর্তমানে নদীর জল বাড়ায় সেই নিচু এলাকাগুলির বহু বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিবছর রুক্নী নদীর জলস্তর বাড়লেই পানিসাগর নালা দিয়ে নদীর জল উল্টো স্রোতে ঢুকে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে বাড়িঘরের পাশাপাশি কৃষিজমি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এই সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই পানিসাগর নালার মুখে একটি স্লুইচগেট নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকার মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, পানিসাগর নালার মুখে সুইচগেট নির্মাণ করে রুকনি নদীর জল উল্টো দিকে প্রবেশ বন্ধ করা গেলে প্রতিবছরের বন্যার প্রকোপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা এবং জলমগ্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বন্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পানিসাগর নালায় স্ল্যুইচগেট নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দারা।



