পিএনসি, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ৩১ আগস্ট : শ্রাবণী পূর্ণিমা ও রক্ষাবন্ধনের পুণ্যতিথি উপলক্ষে সোমবার আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগে বিশ্ব সংস্কৃত দিবস উদযাপন করা হয়। একইসঙ্গে সংস্কৃত সপ্তাহের সমাপ্তি এবং দশদিনব্যাপী সংস্কৃত সম্ভাষণ বর্গের সমাপ্তি অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্বলন ও বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে। বিভাগীয় ছাত্রছাত্রীরা উত্তরীয় পরিয়ে অতিথিদের বরণ করে নেন। পরে ফিতা কেটে সংস্কৃত বিভাগের প্রাচীর পত্রিকা উন্মোচন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাজীবমোহন পন্থ। এবারের প্রাচীর পত্রিকার বিষয় ছিল ‘ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরা’।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাজীবমোহন পন্থ, শিলচর মহিলা মহাবিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যক্ষ শঙ্কর ভট্টাচার্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা বিভাগের নিয়ন্ত্রক সুপ্রবীর দত্ত রায়, ইটানগরের রাজীব গান্ধী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পিপি ডবরিয়াল, সংস্কৃত বিভাগের অধ্যক্ষ শান্তি পোখরেল, অধ্যাপক গোবিন্দ শর্মা এবং মুখ্য বক্তা ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের (ASI) অ্যাডিশনাল ডিরেক্টর ও আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক অলোক ত্রিপাঠী। এছাড়াও হিন্দি, মণিপুরি ও ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক-অধ্যাপিকারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্যে সংস্কৃত বিভাগের অধ্যক্ষ শান্তি পোখরেল বিশ্ব সংস্কৃত দিবস ও সংস্কৃত সপ্তাহ পালনের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৯৬৯ সাল থেকে রক্ষাবন্ধনের পুণ্যতিথিতে সংস্কৃত দিবস পালন হয়ে আসছে। ২০০২ সাল থেকে শুরু হয় সংস্কৃত সপ্তাহ। শ্রাবণী পূর্ণিমার আগে ও পরে মিলিয়ে মোট সাত দিন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সংস্কৃত সপ্তাহ পালন করা হয়। এবারের আয়োজনের অংশ হিসেবে বিভাগে দশদিনব্যাপী সংস্কৃত সম্ভাষণ বর্গেরও আয়োজন করা হয়েছিল।
অধ্যাপক গোবিন্দ শর্মা আধুনিক সময়ে সংস্কৃত ভাষার প্রয়োজনীয়তা, এর প্রচার ও প্রসার এবং সংস্কৃত দিবস পালনের গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন। শঙ্কর ভট্টাচার্য সংস্কৃত ভাষার প্রাচীন ঐতিহ্য থেকে বর্তমান সময়ের প্রাসঙ্গিকতা এবং ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরায় সংস্কৃতের ভূমিকা তুলে ধরেন। অধ্যাপক পিপি ডবরিয়ালও অনুষ্ঠানে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য রাখেন। কুলপতি ড. রাজীবমোহন পন্থ সংস্কৃত দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে ভারতীয় ঐতিহ্য ও জ্ঞান পরম্পরার সঙ্গে সংস্কৃত ভাষার গভীর সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সংস্কৃত বিভাগের পক্ষ থেকে রক্ষাবন্ধনেরও আয়োজন করা হয়। ছাত্রছাত্রীরা স্তোত্র পাঠ ও সংগীত পরিবেশন করেন। মুখ্য বক্তা অলোক ত্রিপাঠী তাঁর বক্তব্যে দ্বারকা নগরীর উৎখনন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সাহিত্য, ইতিহাস ও পুরাতত্ত্বের দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বারকার ঐতিহাসিক গুরুত্ব, উৎখনন এবং আন্ডারওয়াটার আর্কিওলজির মাধ্যমে সমুদ্রের নীচে তলিয়ে যাওয়া প্রাচীন দ্বারকার ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের বিভিন্ন দিক তিনি তুলে ধরেন।
দশদিনব্যাপী সংস্কৃত সম্ভাষণ বর্গের সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি ব্যক্ত করেন। পরে অতিথিদের হাতে তাঁদের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। বর্গশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের তৃতীয় সেমেস্টারের ছাত্র সৌরভ নাথ। শিলকুড়ি, দরগাকোণা-সহ বিভিন্ন এলাকার ছাত্রছাত্রীরা এই প্রশিক্ষণ বর্গে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শেষে সংস্কৃত বিভাগের পোস্ট ডক্টোরাল ফেলো মিলন বর্মণ উপস্থিত অতিথি ও সকল অংশগ্রহণকারীকে ধন্যবাদ জানান। শান্তি মন্ত্র পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়। আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, অনুষ্ঠানে প্রায় ৬০ জন ছাত্রছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।



