‘ঐক্য ও বৈচিত্র্য ভারতীয়দের ডিএনএ-তে প্রোথিত’, নিউ ইয়র্কে দাঁড়িয়ে বার্তা মোহন ভাগবতের

Spread the news

৩০ আগস্ট : ঐক্য ও বৈচিত্র্য ভারতের প্রতিটি নাগরিকের ডিএনএ-তে মিশে রয়েছে। আমেরিকার নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে বক্তব্য রাখার সময় প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে এমনটাই বললেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস প্রধান (RSS chief) মোহন ভাগবত।  আমেরিকার বহুত্ববাদ বা ‘প্লুরালিজম’-এর সঙ্গে ভারতের ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’ ধারণার এক অর্থবহ তুলনাও তুলে ধরেন তিনি।

তিনি জানান, বৈচিত্র্য ভারতের সংস্কৃতিকে কোনওভাবে বিভক্ত করে না, বরং একে সুন্দরভাবে অলঙ্কৃত করে। স্বামী বিবেকানন্দের বাণী স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের প্রতিটি দেশের নিজস্ব একটি দায়িত্ব ও ভাগ্য রয়েছে। ভারতের প্রধান কাজ হল এই বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের দর্শনকে উপলব্ধি করা এবং তা গোটা বিশ্বের সামনে তুলে ধরা

প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্দেশে একটি বার্তা দিয়ে আরএসএস প্রধান তাঁদের কর্মভূমির প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আপনারা আমেরিকায় থাকেন, উপার্জন করেন। তাই এই দেশের প্রতি আপনাদের সৎ ও বিশ্বস্ত থাকা নৈতিক দায়িত্ব।’ নিজের কর্মভূমির দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার পরেই মাতৃভূমি ভারতের জন্য অবদান রাখা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আধ্যাত্মিক চিন্তাভাবনা প্রসঙ্গে ভাগবত ডোনাটের উদাহরণ টেনে বলেন যে, ‘বৈষয়িক সুখ কেবলই সাময়িক। এটি কখনও স্থায়ী মানসিক তৃপ্তি দিতে পারে না।’ মানবজাতিকে একটিমাত্র সুতোয় গাঁথা মালার পুঁতির সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘বাহ্যিক পোশাক বা উপাসনা পদ্ধতি আলাদা হলেও আত্মা আমাদের সকলকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছে। সঠিক চিন্তাভাবনা মানুষকে ঈশ্বরের নিকটবর্তী করে, অন্যদিকে ভুল চিন্তা মানুষকে পশুত্বের দিকে ঠেলে দেয়।’

কর্মজীবনের সাফল্য প্রসঙ্গে তিনি মত প্রকাশ করেন যে, একজন মানুষ কত টাকা উপার্জন করল তা দিয়ে তাঁর সাফল্য মাপা যায় না; বরং তিনি সমাজের জন্য কতখানি বিলিয়ে দিতে পেরেছেন সেটাই প্রকৃত মূল্যায়ন। ভারতীয় দর্শনে অর্থ ও কামের গুরুত্ব স্বীকার করেই তিনি ব্যক্তি, সমাজ এবং পরিবেশের সমান্তরাল উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *